ইরাকে ইরানি বিমান সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত, কড়া প্রতিক্রিয়া
অনলাইন ডেস্ক
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে একের পর এক দেশটির ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার শিয়া মুসলিমদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দর তেহরানের সব ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত করেছে বাগদাদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বিমানবন্দরের পরিচালক হোসেন মুহান্না জানান, নাজাফের গভর্নরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা নির্দেশনার পর ইরান ও নাজাফ বিমানবন্দরের মধ্যে সব ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় আওতায় ইরাকের ইরবিল ও সুলাইমানিয়া বিমানবন্দর ইরানি ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। ফলে বাগদাদ, নাজাফ, ইরবিল ও সুলাইমানিয়া বিমানবন্দরে এখন তেহরানগামী ও ইরান থেকে আসা ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন, তেহরানকে বিমান চলাচল ও বিমানবন্দরের সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে এ অঞ্চলের কোনো দেশেরই আর সেই সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, শত্রুতাপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নে আমেরিকার সাথে সুর মেলানোর বিষয়টি ইরানি জাতির স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে। এ অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যবস্থা হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই নয়। বাগদাদের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর নাজাফের এই বিমানবন্দরটি ইরানের ফ্লাইটগুলোর জন্য একটি প্রধান কেন্দ্র।এসব ফ্লাইটে মূলত ইরাকি শিয়া তীর্থযাত্রীরা ইরানের পবিত্র শহরগুলোতে যান অথবা ইরানিরা ইরাকের পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শনের জন্য আসেন। এছাড়া ইরানে অধ্যয়নরত ইরাকি শিক্ষার্থী এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের জন্যও এই ফ্লাইটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ইরাক ও প্রতিবেশী ইরানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, ধর্ম ও রাজনীতি উভয় বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে উভয় দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বিমানবন্দরের পরিচালক জানান, ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর কার্যক্রম স্থানীয় সময় রাত ২টায় স্থগিত করা হয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ একাধিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের মতো ইরাকও ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে।যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন, বুধবার ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর কার্যক্রম ‘বন্ধ’ হয়ে যাবে।
যদিও স্থলপথের সুবিধা রয়েছে, তবুও ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর জন্য ইরাক অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে রয়ে গেছে; বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ইরাকি এয়ারলাইনসগুলো ইরানে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এই গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সূত্র: এএফপি।
