ইরানি মিসাইলে ডুববে অত্যাধুনিক মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড?

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অস্থিরতার মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের নিরাপত্তা। বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র কয়েক মিটার উপর দিয়ে উড়ে আসা সি-স্কিমিং ক্রুজ মিসাইলগুলো এই বিশালাকার জাহাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে অত্যন্ত নিচু দিয়ে চলাচল করে, যার ফলে জাহাজের প্রতিরক্ষা ক্রুরা পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পান। তবে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হুমকি মোকাবিলায় জেরাল্ড আর. ফোর্ড একা নয় বরং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় নিয়ে সাগরে বিচরণ করে।

এই রণতরীর প্রধান শক্তি হলো এর ডুয়াল ব্যান্ড রাডার, যা তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো দ্রুতগামী লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া জাহাজটিকে ঘিরে থাকে আর্লে বার্ক ক্লাসের একঝাঁক ডেস্ট্রয়ার। এই এসকর্ট জাহাজগুলোতে সাতশোর বেশি ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম সেল থাকে, যা অনেক দূর থেকেই শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। যদি কোনো মিসাইল এই প্রথম স্তরের বাধা পেরিয়ে আসে, তবে রণতরীটি তার নিজস্ব ইভলভড সি-স্প্যারো মিসাইল ব্যবহার করে শব্দের চেয়ে চারগুণ দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে। একদম কাছাকাছি চলে আসা হুমকির জন্য জাহাজটিতে রয়েছে রোলিং এয়ারফ্রেম মিসাইল এবং স্বয়ংক্রিয় ফ্যালানক্স ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম। এই শেষ ধাপের সুরক্ষা ব্যবস্থায় থাকা গ্যাটলিং গান প্রতি মিনিটে সাড়ে চার হাজার রাউন্ড গুলি ছুড়ে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝপথেই ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে।

এতসব উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন, কোনো জাহাজই শতভাগ নিরাপদ নয়। যদি ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রচুর পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, তবে রণতরীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর ভিড়ে হিমশিম খেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াইটি প্রযুক্তিগত সক্ষমতার চেয়ে গোলাবারুদ এবং নির্ভুল নিশানার প্রতিযোগিতায় পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights