ইরানের পথে হেঁটে কামিকাজে ড্রোন বানাল তুরস্ক

অনলাইন ডেস্ক
আধুনিক সমরাস্ত্রে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে তুরস্ক এবার ‘কামিকাজে’ (আত্মঘাতী) ড্রোনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি শাহেদ ড্রোনের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে তুরস্ক নিজস্ব প্রযুক্তিতে তিনটি শক্তিশালী ড্রোন তৈরি করেছে, যা ইরানের ড্রোন সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।

তুর্কি এভিয়েশন কোম্পানি বায়কারের তৈরি কে-টু, সিবরিসিনেক এবং মিজরাক নামের এই ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সম্পন্ন। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো এগুলো গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিপিএস) ছাড়াই শত্রু ভূখণ্ডে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবিলায় অত্যন্ত দক্ষ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে ইরানের শাহেদ ড্রোনের সীমাবদ্ধতা হলো এর এআই ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসিত সক্ষমতা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক সোয়ার্ম বা ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করার অভাব। তুরস্কের নতুন এই ড্রোনগুলো একটি সমন্বিত স্তরে কাজ করতে সক্ষম যেখানে অপেক্ষাকৃত সস্তা ও ছোট সিবরিসিনেক ড্রোনগুলো শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও ব্যস্ত রাখবে এবং মিজরাক সেই প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে ফেলবে।

সবশেষে শক্তিশালী কে-টু ড্রোনটি মূল লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালাবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দূর থেকে একটি বায়রাক্তার টিবি-টু ড্রোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে কে-টু ড্রোনটি প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লায় দুইশ কেজি ওজনের বিস্ফোরক নিয়ে ১৩ ঘণ্টা উড়তে পারে এবং হামলার পর এটি আবার ফিরেও আসতে পারে।

তুরস্কের এই নতুন উদ্ভাবন মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে ইরানের ড্রোনগুলো দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকর হলেও তুরস্কের ড্রোনগুলোতে উন্নত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ইমেজিং এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সুবিধা রয়েছে যা সেগুলোকে অনেক বেশি নির্ভুল ও কার্যকর করে তুলেছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights