ইরানের পরমাণু ক্ষেত্র অক্ষত, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর। এতে জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন বিমান হামলা পরও অক্ষত আছে। তারা পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদানগুলিকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা দাবি করছেন, মার্কিন হামলায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা।

পেন্টাগনের প্রাথমিক গোয়েন্দা ইউনিট প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) মূল্যায়ন করা ফলাফলের সাথে পরিচিত চারটি সূত্র সিএনএন’কে এই কথা জানিয়েছেন।

সিএনএনের একটি সূত্র অনুসারে, রবিবার সকালের আগ্রাসনের পরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) পরিচালিত যুদ্ধ মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলাগুলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ এবং সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে এটা ঠিক নয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবিবার ট্রাম্পের দাবির প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে।

ডিআইএ মূল্যায়নের সাথে পরিচিত দুটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ অক্ষত রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা সেন্ট্রিফিউজগুলোরও খুব কম ক্ষতি হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, “তাহলে [ডিআইএ] এর মূল্যায়ন হলো যে, আমেরিকা তাদেরকে হয়তো কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউস গোয়েন্দা মূল্যায়ন স্বীকার করেছে, ট্রাম্পের জন্য আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে এর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। যিনি এই হামলা নিয়ে হৈচৈ করেছেন। যে হামলাকে বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন বলে মনে করেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট মূল্যায়নের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই কথিত মূল্যায়ন ফাঁস হওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হেয় করার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার জন্য নিখুঁতভাবে সম্পাদিত অভিযান পরিচালনাকারী সাহসী যোদ্ধা পাইলটদের অসম্মান করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা। সকলেই জানেন যে চৌদ্দটি ৩০,০০০ পাউন্ড বোমা তাদের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে ফেললে কী হয়? সম্পূর্ণ ধ্বংস।

মার্কিন আগ্রাসনের আগের দিনগুলিতে ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নিজস্ব আগ্রাসন চালিয়ে আসছিল, যার ফলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল।

সোমবার কাতারে মার্কিন পরিচালিত আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে মার্কিন হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। যার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ইরানের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না।

সিএনএন অনুসারে, মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান দুটি প্রধান লক্ষ্যবস্তু; ফোরদো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট এবং নাতাঞ্জ এনরিচমেন্ট কমপ্লেক্স– এ এক ডজনেরও বেশি বোমা মোতায়েন করেছিল। তবুও আক্রমণগুলি সাইটের সেন্ট্রিফিউজ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

সূত্র: প্রেস টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights