ইরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া তার সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমাটিই চূড়ান্ত।

চলমান যুদ্ধ অবসানে ইরানের পক্ষ থেকে আসা সাম্প্রতিক প্রস্তাবটিকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বীকার করলেও তা বর্তমান সংকট নিরসনে যথেষ্ট নয় বলে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রতি তার দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য একাধিকবার সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা পিছিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি কঠোর অবস্থানে থেকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই হবে শেষ সুযোগ। হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কিন্তু তা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে, তবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি খুব দ্রুত হওয়া সম্ভব। তেহরান বর্তমানে কী করতে হবে তা স্পষ্ট জানে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক সুর টেনে বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মূলত হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এখন বিশ্ববাসীর নজর মঙ্গলবারের এই চূড়ান্ত সময়সীমার দিকে।

এদিকে, চলমান সংঘাতে বিজয়ী হওয়ার ফল হিসেবে ইরানের তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক অভিযানের বিপরীতে এটিকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভ হিসেবেই তিনি তুলে ধরেছেন।

ইরানের তেল সুরক্ষিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, সুযোগ পেলে তিনি ইরানের তেল আয়ত্ত্বে নিতে চাইবেন। কারণ, তিনি ‘প্রথমে একজন ব্যবসায়ী’। তার মতে, সামরিক অভিযানের ব্যয় পুষিয়ে নিতে জ্বালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে লাভ হয়েছে। তার দাবি, শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল সেখানে থেকে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বিজয়ীর প্রাপ্য হলো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র এমন নীতি অনুসরণ করেনি। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মতে, দেশটির কার্যত কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী দুর্বল এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও ক্ষয়প্রাপ্ত।

একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানে সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা পেলে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণও আসতে পারে। ট্রাম্প আরও জানান, জ্বালানি কৌশল বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও যুক্ত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আলোচনার একটি অগ্রাধিকার বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, এমন একটি সমঝোতা হতে হবে যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আলোচনার সময়সীমা দ্রুত ঘনিয়ে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights