ইরানে ‘স্বল্পমেয়াদি-শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা আমেরিকার

অনলাইন ডেস্ক

ইরানে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

ওয়াশিংটন যখন ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে, তখন এমন পরিকল্পনার খবর সামনে এলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত।

ট্রাম্প এখনও এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি, বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন পরিকল্পনায় যা আছে
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টকমের এ পরিকল্পনায় ইরানের তেল রফতানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো- দীর্ঘদিন ধরে বোমাবর্ষণ না করে দ্রুত বড় ধরনের ক্ষতি করা, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।

আরেকটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।

অবরোধ নাকি কূটনীতি
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এবং হরমুজ প্রণালী আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এই হামলার পরিকল্পনাটি সামনে এনেছে সেন্টকম। ট্রাম্প এখনও নৌ-অবরোধের ওপরই ভরসা রাখলেও কূটনীতি পুরোপুরি ব্যর্থ হলে যেকোনও সময় সামরিক আঘাত হানার পথ খোলা রেখেছেন।

হাইপারসনিক মিসাইল মোতায়েন
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেন্টকম ইরানে হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পেন্টাগনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সেনাবাহিনীর ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রথম মোতায়েনযোগ্য হাইপারসনিক অস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে এক হাজার ৭২৫ মাইলের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাটির গভীরে থাকা বাংকার বা ভ্রাম্যমাণ মিসাইল লঞ্চারের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে বিশেষভাবে তৈরি।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ ‘স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী’ হামলার রূপরেখাটি তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ পরিকল্পনা থাকার অর্থ এই নয় যে, হামলা আসন্ন, বরং এটি তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আলোচনার টেবিলে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশল হতে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights