ইরান ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কার্যকর করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, “ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের কোনো অধিকার নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে যে সিদ্ধান্তই নেবেন, তা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত।”
তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই এই ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর সেই তিক্ততা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনব্যাপী সামরিক সংঘাত ঘটে। ওই সংঘাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাস ও উত্তেজনা কমেনি। বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুরতা দেখায়, তাহলে দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
যদিও ব্যাপক দমন-পীড়নের মাধ্যমে ইরান সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবু পরিস্থিতি ঘিরে ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একাধিক রণতরীর একটি নৌবহর।
সূত্র : এএফপি
