ইরান ও হিজবুল্লাহ যুক্ত না থাকায় লেবাননের শান্তি চুক্তি টিকবে?

অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, দুই পক্ষই নতুন করে গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বলেন, ‘আর কোনো গুলি নয়।’

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসতে পারেন। তার মতে, এতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও এগোতে পারে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খৌরি বলেন, এই তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা হবে ‘খুবই কঠিন’। কারণ, আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পক্ষ—ইরান ও হিজবুল্লাহ—অনুপস্থিত।

খৌরির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন একটি সমঝোতা লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশটির বড় একটি অংশ মেনে নিতে চাইছে না। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অসংগতি ও দুর্বলতা রয়েছে এবং এটি কার্যত এখন ‘লেবাননের জন্য লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কেবল কূটনৈতিক চাপ বা হুমকি দিয়ে স্থায়ী শান্তি আনা সম্ভব নয়। হিজবুল্লাহ ও ইরানকে আলোচনায় আনতে হবে, যদিও বাস্তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে আশার কথাও শোনান খৌরি। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আরব শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে তিন মাসের মধ্যেই বাস্তব শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, এই সংঘাতের মূল শিকড় ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র না পাওয়ার মধ্যেই নিহিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights