ইরান নিয়ে কী পরিকল্পনা, মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও জানাচ্ছেন না ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনা ঘিরে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নানা ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনাও চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরান নিয়ে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র তা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের জানাচ্ছেন না ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরান বিষয়ে তার পদক্ষেপ কী হবে সেই পরিকল্পনা তিনি আমেরিকার ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।

তবে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করলেও উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কাছাকাছি বড় ধরনের মার্কিন নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানোর লক্ষ্যেই এই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

শনিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের অবহিত করেছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প জানান, বিস্তারিত প্রকাশ করলে তা শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদেরকে আমাদের পরিকল্পনা বলতে পারি না। আমি যদি পরিকল্পনা বলি দিই, তাহলে তা আপনাকে বলার মতোই খারাপ কিছু হবে- আসলে তার চেয়েও খারাপ হতে পারে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “তবে পরিকল্পনা হলো এই যে, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না; অন্যথায় কী ঘটে তা আমাদের দেখতে হবে।”

এদিকে তেহরানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব হতে পারে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানান, আলোচনার দিকে অগ্রগতি হচ্ছে।

শুক্রবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান লারিজানি।

তিনি বলেন, “মিডিয়া যুদ্ধের কৃত্রিম শোরগোলের বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কাঠামোগত ব্যবস্থাগুলো এগিয়ে চলছে।”

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্কতা এবং সংযম- উভয় সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সংঘাত চাইছে না। তার মতে, যুদ্ধ কোনওপক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরান কখনওই যুদ্ধ চায়নি এবং কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না। ইরান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চল- কারো স্বার্থেই কল্যাণ নিয়ে আসবে না।”

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছেন, অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের ইস্যুতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার কথা বলছেন। ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী ও কিছুটা রহস্যময় অবস্থানের কারণে পশ্চিমা ও আরব মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ তারা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনও আক্রমণ হলে তা আগের হামলার চেয়ে ‘অনেক বেশি ভয়াবহ’ হবে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করছেন, যার উদ্দেশ্য হলো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে পুনরায় উসকে দেওয়া। সূত্র: ফক্স নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights