ইরান-মার্কিন চুক্তির সময় ফুরিয়ে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আসন্ন?
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন শক্তি বৃদ্ধি এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা দিলেও গ্রোসি মনে করেন পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো অত্যন্ত জটিল।
ফরাসি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমবারের মতো দুই পক্ষ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, এটা ভালো লক্ষণ। তবে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের দেয়াল টপকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে আলোচনার সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দিয়েছে চরম যুদ্ধাবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অঞ্চলে বর্তমানে বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। পারস্য উপসাগর ও এর আশেপাশে বর্তমানে ১৩টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।
এখানেই শেষ নয়, বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আরও তিনটি ডেস্ট্রয়ার নিয়ে এই বহরে যোগ দিতে এগিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে দুটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল এবং এটি সাধারণত বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হয়।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও ইরানকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে একটি চুক্তিতে আসা তেহরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদিও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, তবুও ইরানের ওপর হামলার সপক্ষে এখনো অনেক জোরালো যুক্তি ও কারণ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে এফ-২২ র্যাপ্টর স্টিলথ ফাইটার জেটের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানের আনাগোনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিমান হামলার সক্ষমতা রাখে।
সূত্র: টিআরটি
