ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা : এক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৯%
অনলাইন ভার্সন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের হামলায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।
এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম।
বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গতকাল বুধবার সকালের বাণিজ্যে তেলের দাম বাড়লেও দিনশেষে কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৯৩.৯৩ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডাব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম হয় ৮৯.৪৪ ডলার। এক সপ্তাহে উভয় তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন সম্পদ বা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে শুরু হওয়া সর্বশেষ হামলাগুলো প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রথম। এসব হামলা সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাকে আরো জটিল করে তুলেছে এবং তেল সরবরাহে আরো বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে।
কমান্ড বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্প্রতি হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরো সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের পাঁচ ভাগের প্রায় এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।
আইআরজিসির আরো দাবি, তারা জর্দানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনের এক মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়েছিল। তবে এর মধ্যে ১০টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময় ডিজেল, হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে দুই লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে।
