ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির চেষ্টা, আসলে কি কি ঘটছে?

অনলাইন ডেস্ক

আমেরিকার সাথে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আসা ওয়াশিংটনের সর্বশেষ বার্তাটি পর্যালোচনা করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও ওয়াশিংটনের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে একই সাথে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা কোনো কাজে আসবে না।

এদিকে সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনির আজই তেহরান সফরে যাচ্ছেন। এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো ইরান সফর করেন। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের দেওয়া মূল ‘১৪ দফা’ প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই এই পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার নীতি জোরদার করেছে তেহরান। ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি বিশেষ তত্ত্বাবধান এলাকা ঘোষণা করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক জাহাজকে ইরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া চলাচলকে অবৈধ বলে গণ্য করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এই নতুন নীতিমালার মাঝেই গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২৫টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার পারাপার করার অনুমতি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জানানো হয়, মোট ২৬টি জাহাজকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক শিপিং রুটে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান বর্তমানে চুক্তি সম্পাদন এবং যুদ্ধ পুনরারম্ভের একদম মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি দ্রুত আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। ট্রাম্প এই কূটনীতিকে আর মাত্র কয়েক দিন সময় দেওয়ার কথা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক একটি সমঝোতা তৈরি হবে। তবে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার আবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি মেনে না নিলে ইরানকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights