ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হলে কার লাভ, কার ক্ষতি?
অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অচলাবস্থার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সমঝোতার চেষ্টা চালালেও দুই পক্ষের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন। আর এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি হলে তিন পক্ষের লাভ-ক্ষতির হিসাবও ভিন্ন হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভাইজ বলেন, ইরানের জন্য এটি অস্তিত্বের প্রশ্ন, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য। বহু বছরের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটি ঘুরে দাঁড়াতে শত শত বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। কিন্তু সেই অর্থ পেতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মৌলিকভাবে স্বাভাবিক করতে হবে।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা জমাট সম্পদের আংশিক মুক্তি দাবি করছে। ইরানের গণমাধ্যম বলছে, প্রাথমিক সমঝোতার জন্যও এই শর্ত অপরিহার্য। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই বিষয়ে কড়াকড়ি করে, তবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো। কিন্তু এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষক মাইরাভ জনজেইন বলেন, ট্রাম্প শুরুতে দ্রুত ফলের আশা করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে তার অগ্রাধিকার হচ্ছে যুদ্ধ শেষ করে জ্বালানি মূল্য কমানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত রাখা, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে।
ইসরায়েলের অবস্থান আরও কঠোর। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে। তবে আলি ভাইজ মনে করেন, এমন কোনো চুক্তি সম্ভব নয় যা ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট করবে।
এছাড়া লেবানন ইস্যুও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি ভবিষ্যতে যেকোনো সমঝোতাকেই ভেঙে দিতে পারে।
