ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি কেমন হবে?

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির কাঠামো মূলত আগের মতোই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ভূরাজনীতি বিশ্লেষক মার্কো ভিনচেনজিনো। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের আলোচনায় এখনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, যাচাই পদ্ধতি ও সময়সীমার মতো পুরোনো ইস্যুগুলোই কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে রয়েছে।

তার মতে, কোনো সমঝোতা হলেও তাতে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকা অবশ্যম্ভাবী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে হবে যে তিনি ইরানকে ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির চেয়ে কঠোর শর্তে রাজি করিয়েছেন। বিপরীতে, ইরানও দাবি করবে যে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে এবং আত্মসমর্পণ করেনি। তিনি বলেন, কার্যত এমন একটি অবস্থাই তৈরি হবে যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিল থেকে ‘বিজয়’ দাবি করে সরে যেতে পারবে—এটাই চুক্তি হওয়ার প্রধান শর্ত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মুডিজ অ্যানালিটিক্সের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ৪৪৭.১৯ ডলার খরচ করতে হয়েছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিমান ভাড়া বাড়ার ফলে গত তিন মাসে মার্কিন ভোক্তাদের মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। মুডিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন, যা দুর্বল অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি মূল্য বজায় থাকলে যুদ্ধের এক বছরের মধ্যে পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights