ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব, সংকটে আফ্রিকার বিমান খাত
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে আফ্রিকার বিমান শিল্প। জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের বিমান সংস্থাগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। বহু সংখ্যক ফ্লাইটও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
আভিয়েশন বিশ্লেষক এবং সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাইজেরীয় ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে বলেছেন, জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আফ্রিকার অধিকাংশ বিমান সংস্থা অচিরেই দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে প্রতি সপ্তাহে তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রুট পরিবর্তনের কারণে আকাশপথ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপে গত কয়েক মাসে সংস্থাটি শত শত নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সংকট মোকাবিলায় কেনিয়া এয়ারওয়েজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট পয়েন্টগুলো এড়িয়ে তারা এখন নাইরোবি হাবের মাধ্যমে ইউরোপীয় যাত্রীদের আনা-নেওয়া করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল রুট পরিবর্তন বা বেশি করে জ্বালানি মজুত করে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে শোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
এই সংকটের প্রভাব কেবল আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই বরং আফ্রিকার পর্যটন শিল্পেও এর নেতিবাচক ধাক্কা লেগেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল এবং টিকিটের বাড়তি দামের কারণে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। কেপটাউনের মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ট্যুর গাইড এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ব্যাপক আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছে। তবে এতসব প্রতিকূলতার মাঝেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কোভিড মহামারীর মতো বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আফ্রিকার এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।
