ইরান যুদ্ধে পাশে নেই নিজ দলের সদস্যরাও, ক্ষোভ উগরে দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বাহিনীর সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এই ভোটাভুটিকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে ভোট দেওয়া আইনপ্রণেতাদের ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে তিরস্কার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে গত বুধবার ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এর পরপরই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, গতকাল একটি অর্থহীন ভোটে প্রতিনিধি পরিষদের ৪ জন কুচক্রী রিপাবলিকান এবং সব ডেমোক্র্যাট সদস্য মিলে আমার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ ঠিক এই মুহূর্তেই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছি আমি। এই সময়ে এসে এমন দেশপ্রেমহীন কাজ কে করতে পারে? ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পবিদ্বেষী সিন্ড্রোমে ভুগছেন দাবি করে তিনি আরও বলেন, তারা আমাকে আরেকটি বিজয় দেওয়ার চেয়ে বরং নিজের দেশের ব্যর্থতা দেখতে বেশি পছন্দ করবে। আর যে চারজন রিপাবলিকান এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারা আসলে লোকদেখানো রাজনীতি করছেন, তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটির আইনি বাধ্যবাধকতা ঠিক কতটুকু, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে ট্রাম্পকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে অথবা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। প্রস্তাবটি যৌথ রেজ্যুলেশন হওয়ায় এটি যদি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও পাস হয়, তবে এতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। যদিও সে ক্ষেত্রে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা লাগাম টানার জন্য প্রতিনিধি পরিষদের এটি চতুর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে গত মে মাসে সিনেটও একই ধরনের একটি প্রস্তাবের অগ্রগতি ঘটিয়েছিল, তবে সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ ভোট হয়নি। এই ভোটকে অনেকে প্রতীকী হিসেবে দেখলেও এটি হোয়াইট হাউসের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়ার পর এই চাপ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একইসঙ্গে এই ভোট ট্রাম্পের নিজস্ব রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও প্রকাশ করে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা চার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার একজন টম ব্যারেট ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, একমাত্র কংগ্রেসই যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে এবং আমাদের সেটি রক্ষা করতে হবে। ট্রাম্পের প্রতিশোধের ভয় পান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছি এবং এর যেকোনো পরিণাম মেনে নিতে প্রস্তুত।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights