ইরান যুদ্ধে ব্যয় পেন্টাগনের হিসাবে ২৯ বিলিয়ন ডলার, বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জন্য কতটা ব্যয়বহুল হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগে কংগ্রেসে দেওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের চেয়ে বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত খরচ দীর্ঘমেয়াদে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
মঙ্গলবার পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নতুন পরিসংখ্যানে সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপন, পাশাপাশি যুদ্ধ পরিচালনার খরচ যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে দেওয়া হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে জানা গেছে।
হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের জননীতি বিশেষজ্ঞ লিন্ডা বিলমেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করাতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, স্বল্পমেয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহার, দুই থেকে তিনটি বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা, সেনাদের বেতন-ভাতা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের ক্ষতি—এসব মিলিয়েই বড় ব্যয় তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ সরঞ্জামের পুনরায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেশি। যেমন, একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হিসাবি মূল্য ২০ লাখ ডলার হলেও বর্তমানে সেটি প্রতিস্থাপনে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ ডলার।
মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক স্থাপনা ৪-৫ বছরে মেরামত, উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রায় ৫৫ হাজার মার্কিন সেনার চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত হবে। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সামনের সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে, আর খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম গড়ে প্রতি গ্যালন ৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
