ইরান যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট কৌশল নেই যুক্তরাষ্ট্রের, মন্তব্য জার্মান চ্যান্সেলরের
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট কৌশল বা নির্দিষ্ট প্রস্থান পরিকল্পনা নেই। তার মতে, ইরান প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য নয়। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে না বলেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফ্রিডরিখ মের্ৎস আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘একটি পুরো জাতি ইরানের নেতাদের দ্বারা অপমানিত হচ্ছে’।
এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো বলেন, ইরান যদি বড় ধরনের ছাড় না দেয় এবং নীতিগত অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন না আনে, তাহলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফ্রান্স জানায়, বারো এর আগের দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি এবং যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, তার দেশ ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সমর্থন করে না। তবে তিনি জানান, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের সঙ্গে কাজ করে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে চায়। ডাউটির অভিযোগ, ইরান সমুদ্রপথ বন্ধ রেখে ‘বিশ্বকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে’। তিনি জোর দেন, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে—কোনো টোল, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ছাড়া।
এই অবস্থানের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। অবরোধে যোগ না দেওয়ায় তিনি স্টারমারকে ‘চার্চিল নন’ বলে কটাক্ষ করেন। এটা পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে আরও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
