ইলিয়াস কাঞ্চনের তিন প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। এ ছাড়া নির্বাচনব্যবস্থায় ‘না’ ভোট রাখাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। গতকাল সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব মতামত এসেছে। সভায় তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে কাউকে পছন্দ না হলে যেন ‘না’ ভোট দেওয়া যায় সে ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে কারও প্রতি অন্যায় হলে তিনি মামলা করেন। সে মামলা নিষ্পত্তি হতে হতে টার্ম (মেয়াদ) চলে যায়। তখন বাদী বিচার পান না। তিনি প্রস্তাব দেন, নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটা বিচারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাতে কমিশনই দ্রুততার সঙ্গে বিচার করতে পারে। যাতে বাদী বঞ্চিত না হন, তিনি তাঁর অধিকার ফিরে পেতে পারেন। আরেকটি প্রস্তাব সম্পর্কে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বিগত সরকারের সময় নির্বাচন কমিশন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসহ (ইভিএম) নানা কিছু কিনে অনেক টাকা তছরুপ করেছে। যার কারণে সাধারণ মানুষের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা থাকে না। স্বচ্ছতা কীভাবে নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আনা যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে জনগণের আস্থা ফেরত আসবে না। না হলে জনগণ মনে করবে, এরাও আগের মতোই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সভায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সত্তার বিষয়ে কথা বলেছেন। সভায় আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মত এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন, এটা মিশ্র পদ্ধতিতে আসা উচিত। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা, স্বচ্ছভাবে দলীয় অর্থায়ন করা, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব অংশীজনের সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা থাকার কথাও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সভায় নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ‘না’ ভোটের প্রসঙ্গও এসেছে। সভায় নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, সদস্য মো. আবদুল আলীম, জেসমিন টুলী প্রমুখ উপস্থিত আছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, শুধু বুদ্ধিভিত্তিক কথা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও আমরা ভেবেছি আমাদের এ সংস্কৃতিতে কোন ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি প্রয়োগযোগ্য হবে। অনেক ভালো ভালো মডেল বিভিন্ন দেশে দেখতে পাই। কিন্তু আমাদের এখানে কোনটা কার্যকর হবে? অনেকেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার কথা বলেছেন। তাহলে দায়বদ্ধতার পরিসর আরও বড় হবে। এখন দুই কক্ষে কীভাবে নির্বাচিত হবেন? তা নিয়েও বিস্তারিত আরোচনা হয়েছে। আমাদের এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেই। তার পরও আমাদের যে বিভাগগুলো আছে সেটাকেও ভাবা হয়েছে, যা একটা রিফ্লেকশন হতে পারে। সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বর বিষয়টি এসেছে। নারীদের আসন ১০০ করে সরাসরি নির্বাচনের কথা এসেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার বিষয়টি এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights