ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে পিটিএসডি ও আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইসরায়েলি সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত অন্তত ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলে মোট আত্মহত্যার ঘটনার ৭৮ শতাংশই ছিল সম্মুখসারির যোদ্ধাদের মধ্যে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে এই মানসিক সংকটের মাত্রা ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রোনেন সিদি জানান, সেনারা মূলত দুই ধরনের ট্রমার শিকার হচ্ছেন। প্রথমটি হলো মৃত্যুভয়, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে নিজের বা সহযোদ্ধার প্রাণ হারানোর আতঙ্ক কাজ করে। দ্বিতীয়টি হলো ‘মরাল ইনজুরি’ বা নৈতিক ক্ষত- যুদ্ধক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নিরপরাধ নারী ও শিশু নিহত হওয়ার স্মৃতি অনেক সেনার বিবেককে তীব্রভাবে আঘাত করছে। এই অপরাধবোধ ও অনুশোচনা থেকে বেরিয়ে আসতে না পেরে তারা গভীর মানসিক সংকটে ভুগছেন।
পাউল নামে এক রিজার্ভিস্ট সেনা জানান, যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি ও গুলির শব্দ তাকে এতটাই তাড়া করে যে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পারছেন না। একদিকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা, অন্যদিকে গাজা ও লেবাননে অব্যাহত সংঘর্ষ। এই বহুমুখী যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরায়েলের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, একের পর এক সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ এবং অবিরাম সহিংসতার অভিজ্ঞতা সেনাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। সময়মতো যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ট্রমা কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কর্মসূচি জোরদার না করা হলে সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি সমাজ ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
