ইসরায়েলে হামলার নতুন লক্ষ্যতালিকা প্রস্তুত করেছে ইরান
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা চালালে পাল্টা জবাব দিতে দেশটির অভ্যন্তরে নতুন লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে ইরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই সূত্রের দাবি, নতুন লক্ষ্যবস্তুগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে সেগুলোতে হামলা হলে বছরের পর বছর মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব না হয়। তার ভাষায়, এসব স্থাপনায় আঘাত হানলে ‘ইসরায়েল থেকে মানুষের দেশত্যাগের প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হবে’।
এমন মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত শাহিদ আলিমোহাম্মাদি স্থাপনা- যা ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে উল্লেখ করা হয়—তা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থাপনাটির নির্মাণকাজ এখনও চলমান। তবে পাহাড়ের গভীরে নির্মিত সুড়ঙ্গ, ভূগর্ভস্থ কক্ষ ও সুরক্ষিত কমপ্লেক্সের কারণে এটিকে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালীভাবে সুরক্ষিত সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইরানি সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এই স্থাপনায় কোনও ধরনের হামলা হলে তার সরাসরি জবাব ইসরায়েলকে দেওয়া হবে। এমনকি হামলাটি যদি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং তাতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ না-ও থাকে, তবুও ইসরায়েলকে এর দায় বহন করতে হবে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শাহিদ আলিমোহাম্মাদি স্থাপনা নিয়ে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। তেহরানের দাবি, সেখানে উন্নতমানের সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও প্রস্তুতের কাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এই সুরক্ষিত স্থাপনাটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে তারা মনে করছেন। সূত্র: আল-জাজিরা
