ঈদ শেষে স্বস্তির ফেরা নিশ্চিত করতে মাঠে রেলওয়ে ও বিআরটিএ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
ঈদ-উল-আজহা পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রী সাধারণের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে বিশেষ পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিআরটিএ। একইসাথে রেল যাত্রা নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সড়ক ও রেল উভয় পথেই ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এই যৌথ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
জানা গেছে, রবিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বিআরটিএ। নগরীর অলংকার মোড়, এ.কে. খান, বহদ্দারহাট, নতুন চাঁদগাঁও থানা এবং নতুন ব্রিজ এলাকার কাউন্টারগুলোতে একযোগে এই তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। বিআরটিএ-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মাসুদ আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ-পরবর্তী সময়ে দূরপাল্লার পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল রোধ এবং চালকদের ক্লান্তিজনিত দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা করা। পরিদর্শনকালে বিআরটিএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন কাউন্টারের চালক, হেল্পার, সুপারভাইজার ও কাউন্টার ম্যানেজারদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের গতিসীমা মেনে চলা, ওভারটেকিং না করা এবং ক্লান্ত শরীরে গাড়ি না চালানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সাথে যাত্রীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে তাদের এই তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সড়কপথের পাশাপাশি রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদ-উল-আযহার ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোহাম্মদ সবুক্তগীন। পরিদর্শনকালে তিনি স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবার মান খতিয়ে দেখেন। টিকিট কালোবাজারি রুখতে এবং যাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নানা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মোঃ মাহবুবুর রহমান, প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (পূর্ব) মোঃ সফিকুর রহমান, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মোঃ শফিকুর রহমান, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (চট্টগ্রাম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা, অতিঃ প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পূর্ব) মো. শওকত জামিল মোহসী প্রমুখ।
