উজবেকিস্তানে জোন্সই হেড কোচ
উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব ফুটবল খেলবে। গতকাল দলটি ঢাকা ছেড়ে গেছে। অথচ মাঠে নামার আগেই দলের ভিতরে নানা সার্কাস চলছে, যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্তের গুঞ্জন, সহকারী কোচের সঙ্গে হাতাহাতি, নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ, ট্রিপল নাইনে ফোন, বেতন নিয়ে অসন্তোষ-সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি। দল যাওয়ার আগে কোচ ও অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলন করে প্রস্তুতি ও টার্গেট নিয়ে কথা বলবেন এটাই নিয়ম। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও বাফুফে তা বাতিল করে দেয়।
গতকাল আবার হঠাৎ করে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলো। অথচ সেখানে হেড কোচ, সহকারী কোচ ও অধিনায়ক কাউকে দেখা গেল না। কথা বলেছেন শুধু টিম ম্যানেজার সামিদ কাসেম। কোচ ও অধিনায়ক কেন নেই? এ ব্যাপারে ম্যানেজার বলেন, কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তাই এ অবস্থায় এদের সংবাদ সম্মেলনে আনা হয়নি। কথা হচ্ছে প্রধান কোচ ও সহকারী কোচ হাতাহাতি করেছেন। এখানে অধিনায়ক বা কোনো ফুটবলারকে রাখা হলো না কেন? ম্যানেজার বলেছেন, তদন্ত হচ্ছে দোষী ব্যক্তিদের বের করা। তারপরও জোন্স কীভাবে উজবেকিস্তানে উড়ে গেলেন-সেটাই প্রশ্ন। সব কিছু ওলটপালট। কেউ বলছেন, হেড কোচ ও সহকারী কোচ যা করেছেন তার একমাত্র শাস্তি বহিষ্কার। অথচ তারাই কি না এখনো দায়িত্বে আছেন এবং উজবেকিস্তানেও গেছেন। বাফুফে থেকে বলা হচ্ছে-কেউ তো আর দোষী হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। এটাও বলা হচ্ছে-খেলা যখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায় সেই সময় দুই কোচ না থাকলে দলের ওপর প্রভাব পড়বে। কথা হচ্ছে প্রভাব না পড়ার কি বাকি আছে? শিক্ষকরা যদি ছাত্রের সামনে হাতাহাতি করেন, ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশ ডেকে আনেন তখন কি দলের চেইন অব কমান্ড বলে কোনো কথা থাকে?
জোন্স বিদেশে কোচ হলেও আতিকুর রহমান মিশু দেশি সহকারী কোচ। তবে মূল খলনায়ক জোন্সই। এখন বিদেশি বলে কি তাঁর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে ভয় পাচ্ছে বাফুফে? এতে করে মিশুও রক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন। বয়সভিত্তিক দল হলোও বাংলাদেশের ফুটবলে এ এক বড় কলঙ্ক। এখন যদি দোষীরা ছাড় পেয়ে যান তাহলে তো এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বলা হচ্ছে টুর্নামেন্ট শেষে শাস্তির কথা। কিসের শাস্তি, বড় জোর হুঁশিয়ারি করে দেওয়া হবে। নিজে মারামারি করলেন, আবার ফোন করে হোটেলে পুলিশও ডাকলেন। সেই জোন্সই টুর্নামেন্টে হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন। এ তো দেশের জন্য বড় লজ্জার।
