উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর দায়ে ইয়ুনের আরও ৩০ বছরের সাজা দাবি

অনলাইন ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ায় ২০২৪ সালে সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে বর্তমানে কারাবন্দী দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলের আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটররা।

শুক্রবার আদালতের কাছে তারা এই আবেদন জানান।

অভিযোগে বলা হয়, ওই বছর সামরিক শাসন জারির পটভূমি তৈরি করতে ইয়ুন ড্রোন অনুপ্রবেশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তার সেই সামরিক শাসন জারির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর ফলে তাকে অভিশংসন ও পদচ্যুত করা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এক বিবৃতিতে বিশেষ প্রসিকিউটররা জানান, ইয়ুনের বিরুদ্ধে ‘শত্রুকে সহায়তা করার’ অভিযোগে এই নতুন সাজা চাওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ইয়ুন ‘কৃত্রিম যুদ্ধ পরিস্থিতি’ তৈরির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন।

বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানায়, এই অভিযানের ফলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ড্রোনগুলো বিধ্বস্ত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায় বলে প্রসিকিউটরগণ যুক্তি দেখান।

গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্ট ‘অচল’ করে দেওয়ার চেষ্টার দায়ে ইয়ুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সামরিক শাসন জারির ওই ঘটনায় সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।

ইয়ুনের দাবি, তিনি ‘শুধুমাত্র দেশের স্বার্থেই’ ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধাবস্থায় থাকা দুই কোরিয়ার মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন বরাবরই একটি উত্তেজনার বিষয়।

চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং উত্তর কোরিয়ার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একটি তদন্তে গত জানুয়ারিতে পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের ড্রোন পাঠানোর প্রমাণ মেলার পর তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন লি এই বক্তব্যকে ‘বুদ্ধিমান আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেশটি আবারও দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করায় শান্তি আলোচনার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট লি তার পূর্বসূরির আমলের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় ইয়ুনের ভূমিকার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করার প্রতিও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights