উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ

অনলাইন ডেস্ক

সামরিক নেতৃত্বের রদবদলের অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।রবিবার (৩০ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, শনিবার কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নো কোয়াং চোলকে কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকেই অপসারণ করা হয়নি, বরং ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও তার পদমর্যাদা কমিয়ে অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালক করা হয়েছে। কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল ও পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরেকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু পদে পদোন্নতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানিয়েছে, শনিবার এক অনুষ্ঠানে কিম প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছেন।কেসিএনএ-র ভাষ্যমতে, সম্মাননাপ্রাপ্তরা নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী গুরুত্বসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

কেসিএনএ-র প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, কিম একজন সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বুকে পদক পরিয়ে দিচ্ছেন।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু অনন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা যুদ্ধ সক্ষমতা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশটি তার সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অনন্য বিকাশের ধারা প্রদর্শন করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

জুন মাসের শেষের দিকে কিম একটি নতুন বর্ধিত-পাল্লার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার এবং আর্টিলারির পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বার্ষিক যৌথ মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই নেতৃত্বের এই রদবদল ঘটল।পিয়ংইয়ং নিয়মিতভাবে এই মহড়াগুলোকে আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়ে আসছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এগুলোর সময়সীমা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়ায় এবার মহড়াগুলোর ওপর বিশেষ নজর ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার প্রতি উসকানিমূলক হিসেবে এই মহড়াগুলোর সমালোচনা করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় সিউলের কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমেরও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, কিমের সঙ্গে তিনি তার প্রথম মেয়াদে দুবার সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং এ বছরই সম্ভাব্য আরেকটি বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এরপরও উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং সীমিত পরিসরে আয়োজিত এই মহড়াগুলোর নিন্দা জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের যে পরিকল্পনা ওয়াশিংটন নিয়েছে, তারও তীব্র সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকছে। দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ‘ফ্রিডম এজ নামে একটি ত্রিপাক্ষিক যৌথ মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে।

সিউলের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে তিনটি দেশ মিলে প্রতি বছর এই আত্মরক্ষামূলক মহড়াটি পরিচালনা করে থাকে।

সূত্র: এএফপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights