উদ্ধার হওয়া দুই হাতি আবার গেল মালিকের কাছে
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
সড়ক-মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাতি দিয়ে টাকা (চাঁদা) তোলার দায়ে দুই বছর আগে বনবিভাগ দুটি হাতি উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে রেখেছিল। হাতির মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে নির্যাতন না করা, টাকা না তোলাসহ বেশ কয়েকটি শর্তে এই দুই হাতিকে আবার মালিকদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্রাট ও নিহারকলি নামের দুটি হাতিকে ১২ আগস্ট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে গতকাল গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, ১২ আগস্ট দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরের গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে সম্রাট ও নিহারকলি নামের হাতি দুটিকে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। সম্রাটকে তার মালিক মনির মিয়া ও নিহার কলিকে তার মালিক আবদুুল মজিদ বুঝে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার পর সম্রাটকে উদ্ধার করা হয়। পরে এটিকে সাফারি পার্কে আনা হয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে নিহারকলিকে উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগ সূত্র জানায়, হাতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা এবং এদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ছিল। তাই হাতি দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়েছিল। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হাতির মালিকরা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বন বিভাগের কাছে আবেদন করেছিল। তাদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে হাতি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করে দেখা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে জিম্মানামা ও মুচলেকা রাখা হয়েছে।
সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় হাতি দুটি মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। হাতি দুটি যাতে নির্যাতনের শিকার না হয়, কষ্ট না পায় এবং চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার না করা হয়- এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জিম্মানামা নিয়ে হাতি দুটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, সাফারি পার্কে দুটি হাতির মৃত্যুর কারণে নয়, মালিকদের আগের আবেদনের পর নিয়ম মেনেই হাতি দুটিকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ও ৭ আগস্ট রাজা বাহাদুরসহ পার্কের হাতিশালায় দুটি হাতির মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় শেকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সি রাজু বাহাদুরের ওপর আক্রমণ করে চার বছর বয়সি হাতি জয়ীতা। আক্রমণে রাজু বাহাদুরের একটি পা ভেঙে যায়। হাতির চিকিৎসায় গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড, পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টার পরও ৭ আগস্ট হাতিটির মৃত্যু হয়। অপরদিকে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের অপর একটি হাতির মৃত্যু হয়। ৬ আগস্ট অপর আরেকটি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
