উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি ১২ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার, মাদকসেবীদের আশ্রয়স্থল
বেলাল রিজভী, মাদারীপুর
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাদারীপুরের শিবচরের দৌলতপুর মৌজায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার। ২০২২ সালে জাঁকজমকভাবে উদ্বোধন করা হলেও জনবল সংকটে আজও চালু হয়নি হাসপাতালটি। ফলে যে হাসপাতালটি হওয়ার কথা ছিল দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচানোর শেষ ভরসা, সেটিই এখন মাদকসেবীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রমা সেন্টারের দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনের চারপাশ আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে। এছাড়াও মাদকসেবীরা ট্রমা সেন্টারের এসিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি স্থাপনাটি কার্যত অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে দ্রুতগতির এ মহাসড়কে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রমা সেন্টারটি চালু থাকলে আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় আহতদের ঢাকাসহ দূরের হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিক হাওলাদার বলেন, “উদ্বোধনের পর থেকে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। দিনের বেলায় এখানে ধান শুকানো হয়, আর সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা উচিত।”
আরেক বাসিন্দা রিপন শিকদার বলেন, “এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কাছাকাছি ট্রমা সেন্টার চালু থাকলে অনেক আহত মানুষ দ্রুত চিকিৎসা পেতেন। কিন্তু এখন ঢাকায় বা ফরিদপুরে নিতে নিতে অনেকের মৃত্যু হয়।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রমা সেন্টারটি পরিচালনার জন্য ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্সসহ মোট ৩৪টি পদ সৃজনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন না পাওয়ায় হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শরিফুল আবেদীন কমল বলেন, “হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও জনবল পাওয়া গেলে দ্রুত ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন রক্ষায় নির্মিত ১২ কোটি টাকার এই ট্রমা সেন্টারকে আর পরিত্যক্ত অবস্থায় না রেখে দ্রুত চালু করা হোক। অন্যথায় জনস্বার্থে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে আরও বেশি অব্যবহৃত ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
