‘উদ্যোক্তাদের দ্রুত সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুব শিগগিরই টেকনোলজি, নন-টেকনোলজি, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ, ইনোভেটর ও উদ্যোক্তাদের নীতিগত সহায়তা, অর্থ ও জায়গাসহ সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ : নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তরুণ উদ্যোক্তাদের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি গত তিন মাসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে অংশ নিয়ে স্টার্টআপ, ইনোভেটর ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা করেছেন।
উপদেষ্টা বলেন, গতকাল মাগরিবের নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী ফোন করে জানিয়েছেন, দেশের তরুণ উদ্ভাবক ও স্টার্টআপদের জন্য সরকার স্টার্টআপ ফান্ড ও সাপোর্ট আরও জোরদার করবেন। তিনি (তারেক রহমান) বলেন, জিঞ্জিরায় যান, সেখানে অনেক কিছু তৈরি হচ্ছে। সৈয়দপুরে যান, সেখানে কনস্ট্রাকশন হাব আছে। আমাদের পুরো ইকোসিস্টেমে টেকনোলজি, নন-টেকনোলজি, কৃষিভিত্তিক-সব ধরনের উদ্যোক্তাদের আমরা যুক্ত করতে চাই।
সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা, লোকেশন ও জায়গার ব্যবস্থা, প্রাথমিক অনুদান ও ঋণসহ সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার দ্রুতই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে এবং পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টর একসঙ্গে কাজ করবে।
রেহান আসিফ বলেন, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মিলে ‘অঙ্কুর’ নামে একটি স্টার্টআপ ফান্ড ঘোষণা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকেও স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে বড় স্কেলআপ পর্যায় পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই একজন উদ্যোক্তা যদি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেন, আবার কেউ যদি ৫ কোটি টাকার কোম্পানি স্কেলআপ করতে চান-প্রতিটি ধাপে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন ভারতের হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম সফল হয়েছে, বাংলাদেশও সঠিক সহায়তা পেলে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। আলোচক ছিলেন এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান এবং বুয়েটের অধ্যাপক ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ ড. লুৎফা আক্তার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম। টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
