উৎসবে রঙ ছড়ালো সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

‎সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘সব শিশুদের জন্য শিক্ষা’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত হলো ‘আগামী ফেস্ট ২০২৬’ শিরোনামের উৎসব। পুঁথি পাঠ, নাচ, গান, চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গণিত মেলা এবং কুইজ প্রতিযোগিতা দিয়ে সাজানো ছিল দিনব্যাপী এই আয়োজন।

শনিবার ঢাকার আগারগাঁওস্থ ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি সেন্টার)-এ আয়োজিত এ উৎসবের আয়োজন করে আগামী।

‎‎সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত উৎসবে আগামী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিজ্ঞান ও গণিত মেলায় মেধা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরে শিশুরা। সায়েন্স ও ম্যাথ ফেয়ারে শিক্ষার্থীরা ১৪টি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রকল্প ও শিল্পকর্ম মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

‎অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নেহরীন মাজেদ এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম। আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব রসায়ন ও আনবিক জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ।

‎‎উৎসবে ‘আগামী’ ম্যাগাজিনের প্রকাশনা উদ্বোধন করেন আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাফিসা খানম। এতে সংস্থাটির পথচলা, কার্যক্রম, অর্জন এবং শিশু ও স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

‎‎আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করছে “আগামী”। আর এই উৎসবের মাধ্যমে শিশুদের শুধু দর্শক হিসেবে নয়, বরং উৎসবের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তারা আরও জানান, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুরাও সুযোগ পেলে তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনাও সমানভাবে বিকশিত হতে পারে। সেই সুযোগ করে দিয়ে তাদের অর্জন ও প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতেই এই উৎসব।

‎‎অধ্যাপক জেবা ইসলাম সিরাজ বলেন, আমাদের অনেক শিশু আছে, যারা সমাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের কেউ কেউ খুবই মেধাবী। তাদের মেধার বিকাশের জন্য আমাদের সকলকে কাজ করে যেতে হবে।

‎রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিন বলেন, ‘শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য এই আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। আগামী শিশুদের নিয়ে যে কাজটি করে যাচ্ছে। এটি আসলে আমাদের সবার দায়িত্বটিই তারা পালন করছেন।’ এ সময় তিনি গানও গেয়ে শোনান।

‎‎নজরুলসংগীত শিল্পী রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘শিশুরা কত রকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থেকেও নিজেকে বিকশিত করার জন্য চেষ্টা করছে, তা দেখে আমি অভিভূত।’ পরে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে গান গেয়ে শোনান এই সংগীতশিল্পী।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ড. বজলুর রশীদ খান (চিত্রশিল্পী রশীদ আমিন), স্থপতি ও শিশুতোষ ম্যাগাজিন ‘টইটম্বুর’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হাসনাইন সাবিহ নায়েকসহ অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights