এআই বলছে আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বকাপ ‘জিতবে’ না!

অনলাইন ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে আমরা ‘পল দ্য অক্টোপাস’-এর মতো বিখ্যাত সব ভবিষ্যদ্বাণীকারীকে দেখেছি। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিংয়ের এই যুগে ফুটবল বিশ্বকাপের বিজয়ী দল বেছে নেওয়ার পদ্ধতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও আধুনিক হয়ে উঠেছে। ঠিক তেমনই এক চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে এসেছেন অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানের অধ্যাপক আখিম জেইলেইস। একটি জটিল মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম এবং লক্ষাধিক সিমুলেশনের ওপর ভিত্তি করে তিনি বের করেছেন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দলের নাম। আর তার এই মডেলের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আসরে শিরোপা জয়ের দৌড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিন্তু সবার শীর্ষে নেই।

অধ্যাপক আখিম জেইলেইসের তৈরি করা এই বিশেষ অ্যালগরিদমটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করে। প্রথম ধাপে ফুটবলারদের বাজারমূল্য, দলগুলোর শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বুকমেকারদের মতামতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এই সব তথ্য ও উপাত্তকে নিখুঁতভাবে সমন্বয় করা হয়। পুরো টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য গতিপথ এবং ফলাফল কেমন হতে পারে, তা নিশ্চিত হতে এই মডেলটির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ বার টুর্নামেন্টের কৃত্রিম সিমুলেশন বা মহড়া চালানো হয়েছে। আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে এবারের বিশ্বকাপের আসল ফেভারিট দলের নাম।

এই অ্যালগরিদমের চূড়ান্ত ফলাফল বলছে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে স্পেনের। প্রায় ১৪.৫ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে স্প্যানিশরাই এবার শিরোপা জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। স্পেনের ঠিক পেছনেই সমান ১২.৪ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। জার্মানির শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১১.২ শতাংশ। ফুটবল ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এবং লিওনেল মেসির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এই তালিকার কিছুটা নিচের দিকে রয়েছে। পর্তুগালের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৮.৯ শতাংশ এবং আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা মাত্র ৮.২ শতাংশ।

এই ভবিষ্যদ্বাণীতে পৌঁছানোর জন্য মূলত চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, বিগত আট বছরে দলগুলোর সবকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল বিশ্লেষণ করে তাদের অতীত শক্তির একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বুকমেকারদের দেওয়া বাজির দর বা ওডস বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা টুর্নামেন্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশাকে ফুটিয়ে তোলে। তৃতীয়ত, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ফুটবলারদের গোল এবং অ্যাসিস্টের অবদানের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত রেটিং নির্ধারণ করা হয়েছে। সবশেষে, ট্রান্সফারমার্কেট ওয়েবসাইট থেকে খেলোয়াড়দের বর্তমান বাজারমূল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে যুক্ত করা হয়েছে। পলের জমানো শেষ করে এখন প্রযুক্তির এই যুগে এসে মেশিন লার্নিংয়ের স্পেনের পক্ষে দেওয়া এই রায় কতটুকু সত্যি হয়, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights