একক পণ্যের নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
উদ্ভাবন, প্রযুক্তির বিকাশ ও গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
সোমবার ঢাকার বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
উদ্ভাবক ও গবেষকদের উৎসাহিত করতে নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মানসম্মত গবেষণা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল’ গঠনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ তহবিলে অর্থ দিলে কর ছাড়সহ প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধাকে কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার পথ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনকে গবেষণা ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। এরই মধ্যে কিছু উদ্ভাবন বাজারে বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সচিব জানান, এবারের মেলায় ৬৭১টি আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫০টি উদ্ভাবনী দলকে নির্বাচিত করা হয়। তিন দিনে মেলায় ২০টি একাডেমিক, গণমাধ্যম ও নীতিবিষয়ক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মেলার সেরা ৫০ উদ্ভাবনের মধ্য থেকে বিচারক প্যানেল শীর্ষ ১০টি উদ্ভাবন নির্বাচন করে। এগুলো হলো—হোমপিটাল নেক্সাস, স্মার্ট হুইলচেয়ার, ফায়ারফ্লাই, ভয়েস অ্যাসিস্ট ডিভাইস, বিডি সাইবার হেল্পলাইন, ওয়াটার রিপেলেন্ট জুট ফেব্রিক, ন্যাচারাল ফাইবার পিসিবি, অ্যানটেনা ফর ন্যানোস্যাট, লিকুইড ট্রি ও সেলফ কন্টাক্টর।
শীর্ষ ১০ উদ্ভাবনের প্রত্যেকটির উদ্যোক্তাকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মেলায় সক্রিয় ও সফলভাবে উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য গাজী এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
মেলায় ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি স্টল ছিল। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, শিল্প উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
