একদিনে ইরাকের ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটিতে ২৮ বার হামলা চালায় ইরান

অনলাইন ডেস্ক

ইরাকে অবস্থিত একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ব্রিটিশ ও মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম এবং তাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) এক বিশেষজ্ঞ জানান, ইরান ও পশ্চিমা শক্তির সংঘাত চলাকালে এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এক পর্যায়ে দৈনিক গড়ে ২৮টি পর্যন্ত ড্রোন ছোঁড়া হয়েছিল এই স্থাপনা লক্ষ্য করে।

যুদ্ধের সেই বিভীষিকা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, চারদিকে ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিষ্ফোরণ শোনা এবং সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন একটি অভিজ্ঞতা।

দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাঁটিতে দুই দেশের বাহিনী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করে আসছে। তবে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং লন্ডনের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক রাজনীতিতে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েন স্পষ্ট হলেও রণক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের মধ্যে এখনো গভীর সংহতি বিদ্যমান। ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রতিকূলতার মধ্যেও উভয় দেশের সেনারা একে অপরকে সুরক্ষায় ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে। এই নিবিড় সমন্বয়কে তিনি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন, যদিও ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে মূলত একটি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এয়ার চিফ মার্শাল স্যার হার্ভে স্মিথ জানান, মার্কিন কমান্ডারের সাথে তার আলোচনায় ব্রিটিশ বাহিনীর প্রতি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনা গেছে। তার মতে, চলমান এই অপারেশন দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে। তবে মাঠপর্যায়ের এই ঐক্য সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও ওয়েস্টমিনিস্টারের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ভাষা এবং কূটনৈতিক অবস্থানে ভিন্নতার রেশ রয়েই গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights