এক গোলেই বিশ্বজয়ের নায়ক তোরেস
স্পোর্টস ডেস্ক
পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল। কিন্তু সেই এক গোলই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে দিল ফেরান তোরেসের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে তাঁর করা একমাত্র গোলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। সমালোচনার জবাব দিয়ে মুহূর্তেই ‘লর্ড তোরেস’ থেকে হয়ে উঠেছেন দলের নায়ক।
ফাইনালের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে আসা বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালে পাঠান তোরেস। গোলের পর তাঁর উদযাপনও ছিল আলাদা। কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে সেটিতে লাথি মারেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে সতীর্থরা ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। কারণ এই গোল শুধু জয়সূচক ছিল না, ছিল নিজের প্রমাণ দেওয়ারও এক মুহূর্ত।
বিশ্বকাপের শুরুতে তোরেসকে নিয়ে ছিল অনেক প্রশ্ন। স্ট্রাইকার হিসেবে দলে থাকলেও ফাইনালের আগে পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর গোল ছিল না। পর্তুগালের বিপক্ষে একটি অ্যাসিস্ট ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদানও ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল না পাওয়ার পর তাঁকে একাদশ থেকে বাদও পড়তে হয়েছিল।
তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের একাংশ কটাক্ষ করে ডাকতে শুরু করেছিলেন ‘লর্ড তোরেস’ নামে। কিন্তু সবচেয়ে বড় মঞ্চেই নিজের মূল্য প্রমাণ করলেন তিনি।
ফাইনালে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন তোরেস। ৬২ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। এরপরই বদলে যায় ম্যাচের গল্প।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ পুরো ম্যাচে একাধিক দুর্দান্ত সেভ করলেও তোরেসের সেই শট ঠেকাতে পারেননি। পরে আরও একটি গোল করেছিলেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড, তবে সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ফাইনালের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তোরেস।
তোরেস শুধু স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতাননি, গড়েছেন নতুন রেকর্ডও। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি পঞ্চম। ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটজের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বদলি হয়ে ফাইনালে গোল করলেন এই স্প্যানিশ তারকা।
