এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে কি কি মোতায়েন করল যুক্তরাষ্ট্র?

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বিশাল সামরিক বহর মোতায়েন শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি ইরানের ওপর সামরিক আঘাত হানতে দ্বিধা করবেন না।

এই লক্ষ্যেই পেন্টাগন সম্প্রতি একঝাঁক শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং হাজার হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশালাকার রণতরীগুলো বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না, তবে পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

মূলত ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হওয়ায় এই উত্তেজনার সূত্রপাত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালায়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার চাপের মুখে ইরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে, তবে ইরানের প্রধান প্রসিকিউটর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যে ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরান নমনীয় না হলে এবার তার চেয়েও ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরীগুলোর একটি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা শুরু করে ইতিমধ্যে আরব সাগরে এসে পৌঁছেছে। এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে তিনটি অত্যন্ত বিধ্বংসী গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং প্রায় ৫ হাজার ৭০০ জন দক্ষ নৌসেনা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই রণতরীগুলো আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অবস্থানরত অন্যান্য মার্কিন জাহাজের সাথে যোগ দেবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কাছে দুটি এবং লোহিত সাগরে একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি ছোট যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সামরিক উপস্থিতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।

নৌবাহিনীর পাশাপাশি মার্কিন বিমান বাহিনীও তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইউএস এয়ার ফোর্স সম্প্রতি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি বড় বহর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। মার্কিন কমান্ডের দাবি, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একটি অংশ।

মার্কিন মিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যও এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে নেই; ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অঞ্চলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এদিকে, গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক কার্গো বিমানকে এই অঞ্চলে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য ইরানি হামলা মোকাবিলায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights