এনআইডিতে ছেলের বয়স ১০৫, বাবার ৭০!

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
গণিত বইয়ের পিতা পুত্রের বয়সের অঙ্কের চেয়েও যেন জটিল হয়ে পড়েছে সমীকরণটা। কোনোভাবেই হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। পিতার বয়স ৭০, আর পুত্রের বয়স ১০৫ বছর! বাস্তবে এমন অসম্ভব হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের দিনক্ষণের গোলমাল এমন জটিলতায় ফেলেছে নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকা দুর্গাপুরের একটি পরিবারকে। এনআইডিতে অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বয়স তার বাবার বয়সের চেয়েও ৩৪ বছর বেশি!

এনআইডির এমন ভুলে উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের নিলাখালী গ্রামের বাসিন্দা মুসলেম উদ্দীনের ছেলে মঞ্জুরুল হকের সব দাপ্তরিক কাজ আটকে আছে। কোনো বেসরকারি সংস্থা থেকেও ঋণ নিতে পারছেন না মঞ্জুরুল।

জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা গেছে, মুসলেম উদ্দীনের জন্ম তারিখ ১৯৫২ সালের ১৭ অক্টোবর। তারই ছেলে মঞ্জুরুল হকের জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৯১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে বাবার বর্তমান বয়স ৭০ বছর আর ছেলের বয়স ১০৫! ফলে বাবার চেয়ে ৩৪ বছর ৮ মাস ১৫ দিন বয়স বেশি ছেলের। এমন ঘটনা স্থানীয়দের হতবাক করেছে।
এ ব্যাপারে ‘১০৫ বছর বয়সী’ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘লেখাপড়া করিনি তাই তেমন কিছুই বুঝি না। ডিজিটাল এনআইডি কার্ড অনেক আগেই পাইছি। কিন্তু এটাতে কোন সমস্যা রয়েছে এমন কিছুই বুঝিনি।’

ভুল কখন টের পেলেন সে কথাও জানিয়েছেন মঞ্জুরুল। তিনি বলেন, ‘গত এক মাস আগে যখন (এনজিও) ব্রাক থেকে একটি ঋণ তুলতে যাই তখন তারা আমার ভুল ধরেন। আমার বয়সের সাথে বাবার বয়সের অমিলের বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর বুঝতে পারলাম এটি যারা করেছে তারা ভুল করে করেছে। এখন আমাদের মতো সাধারণ মানুষ বিপাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাড়িতে ঘর তুলে ধারদেনা হয়ে গেছে তাই চিন্তা করেছিলাম ব্রাক থেকে ঋণ নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করবো। পরে বউয়ের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়েছে। অফিসের লোকজন বলছে যতদিন আমার আইডি কার্ড ঠিক না হবে ততদিন তারা ঋণ দিতে পারবে না। আমার বয়স এমন বেশি হওয়ার কারণে যেকোনো কাজে গেলেই নানান সমস্যায় পড়তে হয়।’

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল জানান, আমাদের উপজেলায় (ক) ক্যাটাগরির ভুল সংশোধন করা যায়। এটি যেহেতু বয়স সংশোধনের বিষয় এজন্য এটি (গ) ক্যাটাগরির আবেদন করলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিস ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights