এবার কি হ্যারি কেইনে আলো জ্বলবে

রাশেদুর রহমান
ইংল্যান্ডের ফুটবলে এক দশক ধরে সবচেয়ে নির্ভরতার নাম হ্যারি কেইন। গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, নেতৃত্ব দেওয়া, সব মিলিয়ে তিনি এখন ইংল্যান্ডের প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপ সামনে। আরও একবার ইংলিশরা গান গাইছে, ‘ইটস কামিং হোম’। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই এ গান ইংলিশদের খুব প্রিয়। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখলে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এ গান উচ্চস্বরে শোনা যায়। কিন্তু ইংলিশদের বিশ্বকাপে ট্রফি ঘরে তোলার স্বপ্ন এরপর আর পূরণ হয়নি। গত দুই আসরে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে খেললেও ফাইনাল খেলতে পারেনি ইংলিশরা। এবার কি পারবে বিশ্বকাপ জয় করতে? হ্যারি কেইন-ই আলোর পথ দেখাতে পারেন ইংল্যান্ডকে।

হ্যারি কেইন ৩২ বছর বয়সে আরও পরিণত, আরও ভয়ংকর। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বর্তমানে খেলছেন বায়ার্ন মিউনিখে। ফিফার এক প্রতিবেদনে লিখেছে, তিনি শুধু একজন দুর্দান্ত গোলদাতা নন, বরং আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা প্লেমেকারও। ইংল্যান্ড যদি ৬০ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ জিততে চায়, তবে সেই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন হ্যারি কেইন।

ইংল্যান্ডের ফুটবলেইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল কেইনকে নিয়ে বলেছেন, ‘হ্যারি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসাধারণ অবস্থায় আছে। ম্যাচের পর ম্যাচে গোল করছে। তার পরিশ্রম, পেছনে নেমে এসে দলকে সাহায্য করা এবং আক্রমণে সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা অসাধারণ।’ অন্যদিকে ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি তো সরাসরিই বলেছেন, ‘আমার চোখে সে ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার।’

কেইনের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও বিস্ময় জাগানিয়া। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনিই। ২০২৩ সালে ইতালির বিপক্ষে গোল করে ভেঙেছেন রুনির রেকর্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপে করেছিলেন ছয় গোল, জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। গ্যারি লিনেকারের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি। চলতি মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে তার গোলসংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে (৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল)। এ পরিসংখ্যান তাকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ফরোয়ার্ড হিসেবে আরও উঁচু আসনে বসিয়েছে।

বিশ্বকাপে কেইনের আছে মধুর স্মৃতি। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন তিনি। ইংল্যান্ডকে নিয়ে যান সেমিফাইনালে। যদিও শেষ পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই আক্ষেপ নিয়েই এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ফিফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমার কাছে বিশ্বকাপই একজন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ মঞ্চ। এটি হবে আমার তৃতীয় বিশ্বকাপ। আর এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে উত্তেজনাটা যেন আরও বেড়ে যায়। কারণ আপনি জানেন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি জানেন টুর্নামেন্টটি কত বড়, কতটা গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের সামনে খেলা, ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে নামা। আবারও এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারছি ভেবেই আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত।’ পাশাপাশি বিশ্বকাপ জয়ের অঙ্গীকারও করছেন হ্যারি কেইন।

এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে কেইনের শেষ বিশ্বকাপও। তাই ট্রফি জয়ের ক্ষুধাটা এবার আরও প্রবল। নিজের ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা ঘোচাতে এবার মরিয়া ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারলে শুধু ইংল্যান্ড নয়, বিশ্ব ফুটবলেও নিজের অবস্থান অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন হ্যারি কেইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights