এবার প্রকাশ্যে এল মাদুরোকে আটক অভিযানের রক্তচক্ষু কাহিনী!

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার অভিযানে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

তিনি বলেছেন, মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন বাহিনী তাদের মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিল ওয়াশিংটনের কথামতো চলবে কি না তা জানাতে, এমনকি কথা না শুনলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও–ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিল—হয় আমেরিকার দাবি মেনে নাও, না হলে ‘আমাদের মেরে ফেলা হবে’।

রদ্রিগেজ আরও বলেন, “তারা প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার পর প্রথম মিনিট থেকেই আমাদের হুমকি শুরু করে। তারা দিয়োসদাদো (কাবেলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), হোর্হে (রদ্রিগেজ, আমার ভাই ও সংসদের প্রধান) এবং আমাকে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে বলে— এই সময়ের মধ্যে জবাব দাও, নইলে আমাদের হত্যা করা হবে।”

মার্কিন হামলার সাত দিন পর ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত দুই ঘণ্টার এক বৈঠকে রদ্রিগেজ এসব কথা বলেন।

বৈঠকের ফাঁস হওয়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা’। যদিও এর আগে খবর বেরিয়েছিল, মাদুরো আটক হওয়ার আগেই রদ্রিগেজ ও তার ভাই ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারের বাকি সদস্যরা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত ছিলেন।

রেকর্ডিংয়ে রদ্রিগেজ বলেন, “এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়াটা খুবই কষ্টের।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তাদের জানিয়েছিল- (মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে) অপহরণ নয়, হত্যা করা হয়েছে।”

এর জবাবে তিনি বলেন, “তিনি, তার ভাই ও কাবেলো একই পরিণতি বরণ করতে প্রস্তুত আছেন।”

রদ্রিগেজ আরও বলেন, “আমি বলছি, আজও আমরা সেই অবস্থানেই আছি। কারণ হুমকি আর ব্ল্যাকমেইল চলছে অবিরাম। আমাদের ধৈর্য ও কৌশলগত বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে, স্পষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে।”

এরপর তিনি তিনটি লক্ষ্য তুলে ধরেন— শান্তি রক্ষা করা… আমাদের জিম্মিদের উদ্ধার করা… এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য রদ্রিগেজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত এই প্রেসিডেন্ট তার দাবিগুলো মেনে চলেছেন। তবে রদ্রিগেজ বলেন, তিনি তা করছেন শুধু ‘নিরবচ্ছিন্ন হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের কারণে’। জানুয়ারিতে ট্রাম্প ‘দ্য আটলান্টিক’কে বলেছিলেন, রদ্রিগেজ যদি সঠিকভাবে কাজ না করেন, তাহলে ‘তাকে খুব চড়া মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বেশি।’

তবে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিটা লোপেজ মায়া দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, রদ্রিগেজ হয়তো নিজের জন্যই এই বয়ান তৈরি করছেন। তার ভাষায়, সবাই জানে মাদুরোকে সরানো ভেতরের কারও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

এছাড়া মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও ট্রাম্পের সব দাবিই মেনে চলেছে।

মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের নেতৃত্বকে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ‘খুবই শক্তিশালী’ বলে প্রশংসা করেন এবং বলেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল থেকে অংশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘আরও ধনী’ হতে যাচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights