এবার মিসাইল সিটি প্রকাশ্যে আনল ইরাকি যোদ্ধারা

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মাঠে নেমেছে ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তর্ভুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। সম্প্রতি সারায়া আউলিয়া আল-দাম নামক একটি সংগঠন তাদের মাটির নিচের বিশাল রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এই ভিডিওতে দেখা যায়, মাটির নিচে সুড়ঙ্গপথ দিয়ে ট্রাকের মাধ্যমে বিশাল আকারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘মিসাইল সিটি’র (ক্ষেপণাস্ত্র নগরী) উন্মোচন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জন্য বড় হুঁশিয়ারি।

ভিডিওতে বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক প্রতিরোধ নেতার উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এর মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে, ইরাকি প্রতিরোধের পদক্ষেপ কোনো স্থানীয় সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি বৃহত্তর প্রতিরোধ বলয়ের সমন্বিত কৌশল।

২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যার পর গঠিত হওয়া এই গোষ্ঠীটি শুরু থেকেই ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে আইন আল-আসাদ এবং হারির ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যেও এই গোষ্ঠীটির ভূমিকা ছিল।

ইরাকি এই যোদ্ধাদের হাতে বর্তমানে ইরানের তৈরি জিলজাল ও ফজর রকেটের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বাতার এবং সালাম-ওয়ান ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা ‘আকসা-ওয়ান’ নামক মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ব্যবহারের ঘোষণাও দিয়েছে। এই ঘটনাটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গত দুই দশক ধরে ইরাকে মার্কিন উপস্থিতি এবং অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তৈরি হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাকের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন আর কেবল তেহরানের ওপর নির্ভরশীল কোনো শক্তি নয় বরং তারা নিজস্ব সক্ষমতায় সিদ্ধান্ত নিতে এবং হামলা চালাতে সক্ষম। বিশেষ করে বদর অর্গানাইজেশন, হেজবুল্লাহ ব্রিগেড এবং আল-নুজাবা মুভমেন্টের মতো শক্তিশালী দলগুলো যেভাবে ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রস্তুতির কথা বলেছে, তাতে স্পষ্ট যে এই অঞ্চলে কোনো সংঘাত শুরু হলে ইরাক সেখানে সক্রিয় ও বিধ্বংসী ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights