এবার যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাকি যোদ্ধাদের হুঁশিয়ারি
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘদিনের মার্কিন দখলদারিত্ব এবং বাগদাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরাকের শক্তিশালী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো। মার্কিন সেনারা যদি অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ না করে এবং রাজনৈতিক স্বার্বভৌমত্বে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘ইরাকি রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশন কমিটি’।
ইরাকের আকাশ ও মাটি থেকে এখনো মার্কিন ছায়া সরেনি। দেশটির সার্বভৌমত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো সেখানে অবস্থান করছে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইরাকের ছয়টি বড় প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত ‘ইরাকি রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশন কমিটি’ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিনীদের এই দীর্ঘসূত্রিতা আর সহ্য করা হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত বিদেশি সেনার ইরাক ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু সেনাই নয়, ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিরাপত্তা হুমকি তৈরির অভিযোগও এনেছে এই কমিটি। একে ইরাকি জনগণের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
তবে এবারের উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন খবরদারি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকিকে কেন্দ্র করে ইরাকের রাজনীতিতে এক অচলবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরাকের বৃহত্তম সংসদীয় ব্লক নূরি আল-মালিকিকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করলেও সরাসরি তার বিরোধিতা করছে হোয়াইট হাউস।
ওয়াশিংটন হুমকি দিয়েছে, মালিকি যদি ক্ষমতায় বসেন তবে ইরাকি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এমনকি আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার নাম প্রত্যাহারের জন্য পার্লামেন্টারি ব্লককে সময়সীমা বা আল্টিমেটামও বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এত হুমকি সত্ত্বেও মাথা নত করতে রাজি নন নূরি আল-মালিকি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি কোনো শক্তির চাপে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না। ইরাকের জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে, ওয়াশিংটন নয় এই দাবিতে অটল রয়েছেন তিনি।
বিগত দুই দশক ধরে ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ২০০৩ সালে গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা অজুহাতে ইরাকে যে আগ্রাসন শুরু হয়েছিল, তার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দেশটি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে মার্কিন সেনারা কেবল ‘পরামর্শ ও সহায়তা’ দেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে তাদের উপস্থিতি ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
প্রতিরোধ কমিটি তাদের বিবৃতিতে কঠোর ভাষায় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে চায় এবং দেশবাসীর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে থাকে, তবে আমাদের জনগণের মর্যাদা ও বৈধ অধিকার রক্ষায় আমরা আইনি ও নৈতিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব। যা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামনের দিনগুলোতে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আবারও হামলা বা বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে।
সূত্র: প্রেস টিভি
