এমন বাংলাদেশ ই কি চেয়েছিলাম আমরা?

কিছুদিন ধরে দেশের সকল মানুষের মুখে বহুল ব্যবহৃত একটি কথা হলো, ‘এমন বাংলাদেশ ই কি চেয়েছিলাম আমরা?’ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করলেই দেখা যাচ্ছে, ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক হোক, যেকোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে এই কথাটি বহুল ব্যবহৃত হয়ে চলেছে। আসলে কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম আমরা? অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে চোখ জুড়িয়ে যায় সবার। ঋতুবৈচিত্রে দেশ বারো মাসে নানান সাজে ফুটিয়ে তোলে এর অপরূপ সৌন্দর্য্য। তবে শুধু প্রকৃতির এই সৌন্দর্য্য ই নয়, মানুষের সৌন্দর্য্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে মানুষের ই বিভিন্ন কর্মকান্ড কে কেন্দ্র করেই মূলত প্রশ্নটি বারবার উঠে আসছে যে কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম আমরা? তবে বর্তমানে অকল্পনীয়ভাবে মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অন্য এক রূপে প্রকাশিত হচ্ছে এই দেশে।

এইতো কয়েকমাস আগেও এদেশের মানুষের অন্যতম একটি চিন্তার বিষয় ছিলো এই যে, বর্তমান প্রজন্ম কী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে? তারা কি দেশের কথা ভাবে? মোবাইল ফোনে আসক্তি যেনো বাইরের কোনো খবর ই তাদের রাখতে দেয় না। আমরা সবাই ভাবতাম, এদেশের কেউ কারও জন্য ভাবে না, সবাই এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তায় আচ্ছন্ন। কিন্তু ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন যেনো অন্যতম একটি মাইলফলক হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিলো। জুলাইতে শুরু হওয়া কোটাবিরোধী আন্দোলন যখন থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিলো, তখন এই জাতি সম্পর্কে পূর্বচিন্তা একেবারেই যেনো পালটে গেলো। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ঐক্য, সম্প্রীতি, একতাবদ্ধতা ইত্যাদির অন্যতম একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলো এই বাঙালি জাতি।

শুধু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ রইলো না এদেশের মানুষের সম্প্রীতির সম্পর্ক। গত কয়েকদিন ধরেই আকস্মিক বন্যায় দেশের উত্তরবঙ্গ যখন প্রায় পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন সারাদেশের মানুষ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একতাবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ দূর্যোগ মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়লো। এদেশের মানুষ স্বদেশ রক্ষায় ১৯৭১ সালে যেমন জীবনের মায়া ত্যাগ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, একইভাবে বারবার স্বদেশপ্রেমের জাগরণ হচ্ছে এই দেশে। যার যা কিছু আছে তাই দিয়েই দেশ ও জাতিকে রক্ষায় এগিয়ে আসছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আর মানুষের এই ঐক্য তৈরি ও ধরে রাখতে সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম। একসময় এই তরুণ প্রজন্মের প্রতি সকল আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলো দেশবাসী। কিন্তু এই প্রজন্মই অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে হয়ে উঠেছে বিদ্রোহী প্রজন্ম। শুধু বিদ্রোহ না, প্রয়োজনের সময়ে বিনয়, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে সকলকে আবদ্ধ করতেও সক্ষম হয়েছে এই প্রজন্ম।

এদেশে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষ, স্কুল পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলেমেয়ে থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের যেনো এখন একটা ই নেশা, সেটা হলো স্বদেশপ্রেম। যেকোনো মূল্যে সবাই এখন দেশকে বাঁচাতে চায়। বাংলাদেশের এই অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমির দেখা আর কোথাও হয়তো মিলবে না। হ্যা, এরকম বাংলাদেশ ই চেয়েছিলাম আমরা। যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। তাইতো লেখক কামিনী রায় বলে গিয়েছেন, “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”। দেশের মানুষের এই সম্প্রীতির বন্ধন যদি মজবুত থাকে, তাহলে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে দূর্বার গতিতে, পৌঁছে যাবে উন্নতির চরম শিখরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights