এমবাপে-হালান্ড কেন কখনোই মেসি-রোনালদোর উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবেন না
অনলাইন ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে আজ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স ও আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। বহুদিন ধরেই এই ম্যাচকে নতুন যুগের দুই সেরা তারকার দ্বৈরথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, এমবাপে ও হালান্ড যত বড় তারকাই হন না কেন, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনোই লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তি পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন।
ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সামর্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু একটি ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে যে পরিবেশ, নাটকীয়তা ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, তা তাদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য সরাসরি লড়াইয়ের অভাব। মেসি ও রোনালদো প্রায় এক দশক একই লিগে খেলেছেন। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের এল ক্লাসিকো শুধু দুটি ক্লাবের লড়াই ছিল না, সেটি ছিল দুই মহাতারকার ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বেরও পরীক্ষা। বছরে একাধিকবার কোটি কোটি দর্শক সেই দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় থাকতেন।
অন্যদিকে হালান্ড খেলছেন ইংল্যান্ডে, এমবাপে স্পেনে। ফলে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ছাড়া এই লড়াই নিয়মিত দেখা যায় না। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিক নাটকীয়তাও তৈরি হয়নি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই তারকার ক্যারিয়ারের পথ। মেসি ও রোনালদো প্রায় ১৫ বছর ধরে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় ছিলেন। ব্যালন ডি অর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ শিরোপা, গোলের রেকর্ড, ব্যক্তিগত পুরস্কার সবকিছুতেই চলেছে টানটান লড়াই। প্রতি মৌসুমেই একজনের সাফল্যের জবাব দিয়েছেন অন্যজন।
এমবাপে ও হালান্ডের মধ্যে সেই দীর্ঘমেয়াদি পাল্টাপাল্টি ইতিহাস এখনো তৈরি হয়নি। একজনের সাফল্য আরেকজনকে একই মঞ্চে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও খুব কম এসেছে।
ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের শতবর্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসি-রোনালদো দ্বৈরথকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সেই আবেগ, ইতিহাস ও বৈশ্বিক আকর্ষণ তাদের প্রতিটি ম্যাচকে বিশেষ করে তুলেছিল। এমবাপে ও হালান্ডের ক্ষেত্রে সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নেই।
আজকের ম্যাচেও সেই পার্থক্য স্পষ্ট। নরওয়ে কোচ আর্লিং হালান্ডকে শুরুর একাদশে রাখেননি। ফলে বিশ্বকাপে বহুল প্রতীক্ষিত এমবাপে-হালান্ড দ্বৈরথ ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা যাবে না। এমন ঘটনা মেসি-রোনালদোর সময়ে কল্পনা করাও কঠিন ছিল, কারণ তাদের লড়াইয়ের জন্যই কোটি কোটি দর্শক অপেক্ষা করতেন।
এমবাপে ও হালান্ড নিঃসন্দেহে বর্তমান প্রজন্মের সেরা দুই ফুটবলার। তারা আরও অনেক রেকর্ড গড়তে পারেন, বিশ্বকাপ কিংবা ব্যালন ডি অরও জিততে পারেন। কিন্তু মেসি-রোনালদো প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু পরিসংখ্যানের গল্প ছিল না। সেটি ছিল একই সময়ে, একই মঞ্চে, একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ইতিহাস লেখার এক বিরল অধ্যায়।
তাই আজকের বিশ্বকাপ ম্যাচ যত আকর্ষণীয়ই হোক, এমবাপে ও হালান্ডের লড়াইকে মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি বলা যতটা সহজ, সেই উচ্চতায় পৌঁছানো ততটাই কঠিন।
সূত্রঃ গোল ডটকম
