এয়ারবাস থেকেই উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, ইঙ্গিত বিদায়ী সিইও’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
বহরে বড় আকারের নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‌‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এয়ারক্রাফট তৈরির প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে একটি চুক্তিও করেছে। আলোচনা চলছে আরেক কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গেও। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার এয়ারবাস থেকেই উড়োজাহাজ কেনার দিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. শফিউল আজিম।

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে বিমানের বিদায়ী এমডি বলেন, ‘আমরা বিমানের ফ্লিটটা বড় করতে চাই। এ কারণে এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিমান। বিমানে ডাইভারসিটি না এলে তো হবে না। যাত্রীরাও চায় ভিন্নতা আসুক। একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন চুক্তি ও সিদ্ধান্ত। তখন দেখবেন দক্ষিণ এশিয়ায় বিমানের ফেসভ্যালু বাড়বে ও ডাইভারসিটি আসবে। আপনারা বিমানকে অনন্য উচ্চতায় দেখতে পারবেন।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় বলাকা ভবনের কনফারেন্স রুমে এভিয়েশন ও ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের (এটিজেএফবি) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিমানের বিদায়ী এমডি।
তবে বোয়িংও বিমানের বিশ্বস্ত পার্টনার জানিয়ে শফিউল আজিম বলেন, ‘বোয়িংয়ের সাথে আমাদের বিমানের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আমরা তাদের কিস্তি দিচ্ছি, তাদের মেইনটেইন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল সেবা নিচ্ছি। বোয়িংয়ের সাথে বিমানের শুধু কেনাবেচার সম্পর্ক নয়। তাদের সাথে বিমানের মেইনটেইন্যান্স, টেকনিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং সেবাসহ নানা বিষয় রয়েছে।’

বিদায়ী এমডি বলেন, ‘আমাদের ফ্লিট বড় করতে হবে। সেটা এয়ারবাস আর বোয়িং যেটা হোক না কেন তা দিয়ে। বিমান কিনতে হবে। এয়ারবাস তাদের অফার বদলে যাত্রীবাহী বিমানের অফার দিয়েছে। তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্টও খুব ভালো।’

শফিউল বলেন, ‘এয়ারবাস ফ্লাইট কেনার জন্য দুইটা প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রথমটাতে দুইটা কার্গো ফ্লাইট বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। আমাদের মনে হয়েছে আপাতত আমাদের কার্গো বিমান কেনার দরকার নেই। তবে আমরা যাত্রীবাহী বিমান বহর বাড়ানোর ইচ্ছার কথা জানাই। তখন এয়ারবাস আমাদের চারটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বিক্রির দ্বিতীয় প্রস্তাব পাঠায়। এই প্রস্তাব আগের প্রস্তাবের চেয়ে ভালো ছিল। সেই প্রস্তাব ইভ্যালুয়েশন কমিটি থেকে বিমানের বোর্ডে যায়। বোর্ড এবিষয়ে আগানোর নির্দেশনা দিয়ে নেগোসিয়েশন কমিটিতে পাঠিয়েছে।’

এমডি বলেন, ‘আমরা এখন এয়ারবাসের অফারগুলো গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বহরের সব বড় এয়ারক্রাফট বোয়িংয়ের (২১টির মধ্যে ১৬টি)। কিছু ডাইভার্সিটি, নতুন এয়ারক্রাফট থাকলে যাত্রীরাও পছন্দ করবে।’

শফিউল আজিম বলেন, ‘কোনো সময় যেকোনো কোম্পানির এয়ারক্রাফট খারাপ পারফর্ম করতে পারে, তখন যেন রিস্কে না পড়ি সে কারণে ডাইভার্সিফাইয়ের কথা ভাবছি। বোয়িং বা এয়ারবাস তাদের প্রপোজাল দিতে পারে, তাই বলে তো আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না।’

বোয়িংয়ের প্লেন বিক্রির প্রস্তাব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বোয়িংও আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সেটাও ইভ্যালুয়েট করব। বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক। শুধু প্লেন কেনাবেচা সম্পর্ক না, তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট ভালো, ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ভালো। সব মিলিয়ে আমরা একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে যে এয়ারক্রাফটই কিনি না কেন দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাবে ক্রেতা হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’ অনুষ্ঠানে এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত) বাতেন বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল কাওসার ইমন, অর্থ সম্পাদক শফিউল্লাহ সুমন ও বিমানের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights