এরশাদের স্বপ্নের ‘পল্লী নিবাস’ এখন ভূতুড়ে বাড়ি
নজরুল মৃধা, রংপুর
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্নের ‘পল্লী নিবাস’ বাসভবন এখন জনশূন্য ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় অবস্থিত এই বাসভবনে এরশাদের পরিবারের কেউই আসেন না। নির্জনতাই এই বাসভবনটির এখন নিত্যসঙ্গী। ভবনটির সামনে হাঁটুসম ঘাস জানান দিচ্ছে অবহেলার কথা। পল্লী নিবাস সারা দিন তালাবদ্ধ থাকে। পালাক্রমে আট ঘণ্টা করে ডিউটি করছেন তিনজন গার্ড। তাঁরাই কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করছেন। ঝোপঝাড়ে ভরা এই বাসভবনটি পোকামাকড়ের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। গার্ড সাহেব আলী জানান, এই বাড়িতে এরশাদ পরিবারের কেউ আসেন না। পল্লী নিবাসের নামে একটি ট্রাস্ট থাকলেও ট্রাস্টের কেউ এই বাড়ির খোঁজ রাখেন না। বাড়িটি তিন তলা হলেও এর কাজ এখনো শেষ হয়নি। ভবনের প্রতিটি রুমে তালা দেওয়া রয়েছে। হাসপাতালের সুপারভাইজার রিপন মিয়া জানান, পল্লী নিবাসের ট্রাস্টটি সচল হলে এখানে মানুষজন আসত। রংপুরের বাইরে থেকে যারা কবর জিয়ারত করতে আসেন, তাদের আশপাশের হোটেলে থাকতে হয়। পল্লী নিবাসটি খোলা থাকলে ঢাকা থেকে দলের লোকজন কবর জিয়ারত করতে এলে এখানেই থাকতে পারত। জানা গেছে, মৃত্যুর আগে এরশাদের পল্লী নিবাসে আসার কথা থাকলেও আর আসা হয়নি। বর্তমানে বাড়ির প্রধান ফটকটি সব সময় বন্ধ থাকে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গার্ড রয়েছে। বাইরের কোনো মানুষ এখানে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি ঢাকা থেকে কোনো নেতা এরশাদের কবর জিয়ারত করতে এলে তাঁকে থাকতে হচ্ছে অন্য স্থানে। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যান। মৃত্যুর আগে ওই বছরের ২৮ জুন পল্লী নিবাস দেখতে এরশাদের রংপুরের আসার কথা ছিল। দুই রাত অবস্থান শেষে ৩০ জুন ঢাকায় ফেরার সূচি চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বপ্নের পল্লী নিবাস দেখা হয়ে ওঠেনি।
পল্লী নিবাসসংলগ্ন এরশাদের প্রতিষ্ঠিত ডায়াবেটিক হাসপাতালের লিচুতলায় এরশাদকে সমাহিত করা হয়েছে। এই সমাধি ঘিরে কমপ্লেক্স, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণের কথা থাকলেও তা আজও হয়নি।
