ওজন বেড়েছে ট্রাম্পের, নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ চিকিৎসকের

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে ‘চমৎকার সুস্থ’ বলে ঘোষণা করেছেন হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক। তবে গত এক বছরে তার ওজন প্রায় ১৪ পাউন্ড বেড়ে যাওয়ায় তাকে নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী মাসে ৮০ বছরে পা দিতে যাওয়া ট্রাম্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে শপথ নেওয়া প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক শেন বার্বাবেল্লা তার প্রতিবেদনে জানান, ট্রাম্পের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা ভালো রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি সক্ষম।

এই পরীক্ষায় ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের আল্ট্রাসাউন্ড, ঘাড়ের ধমনীর পরীক্ষা, ফুসফুস ও চোখের পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়। উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও স্মৃতিশক্তি সম্পর্কিত পরীক্ষাও নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (৭৫ ইঞ্চি) এবং ওজন ২৩৮ পাউন্ড। গত বছরের তুলনায় তার ওজন ১৪ পাউন্ড বেড়েছে। তার বডি মাস ইনডেক্স বর্তমানে ২৯.৭, যা অতিরিক্ত ওজনের সীমার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং স্থূলতার সীমার (৩০) ঠিক নিচে।

চিকিৎসক জানান, ট্রাম্পকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং ওজন কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের বয়স তার প্রকৃত বয়সের তুলনায় প্রায় ১৪ বছর কম বলে ধারণা করা হয়েছে। চিকিৎসকের মতে, ব্যস্ত কর্মসূচি, নিয়মিত বৈঠক, জনসম্পৃক্ততা এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড তার সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

যে ওষুধগুলো খাচ্ছেন ট্রাম্প

উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প বর্তমানে দুটি ওষুধ গ্রহণ করেন। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তিনি প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খান।

চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের কারণেই ট্রাম্পের হাতে যে কালশিটে দাগ দেখা যায়, তার একটি কারণ হতে পারে। ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দনের ফলেও এসব দাগ তৈরি হতে পারে।

এছাড়া, তার পায়ে হালকা ফোলাভাবের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যার (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) কারণে হয়ে থাকে, যেখানে পায়ের শিরাগুলো ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না।

২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় হত্যাচেষ্টার সময় গুলির আঘাতে ডান কানে যে ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তার চিহ্ন এখনও রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানসিক সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা

৮০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়সজনিত সক্ষমতা নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অনেক আমেরিকান মনে করেন ট্রাম্পের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সর্বশেষ পরীক্ষায় ট্রাম্প মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় ৩০ এর মধ্যে ৩০ নম্বরই পেয়েছেন। এটি স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি প্রচলিত পরীক্ষা।

যদিও ট্রাম্প এবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করেছেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক নাগরিক রাজনীতিবিদদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারেন না। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৭০ শতাংশের বেশি আমেরিকান মনে করেন, বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পুরো সত্য বলেন না।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করা আইনত বাধ্যতামূলক না হলেও আধুনিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি প্রচলিত রীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র : টাইম ম্যাগাজিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights