ওয়ার্ল্ড ক্লাস গোল, খরকুটোর মতো ভেসে যাওয়া মরক্কোর ডিফেন্স; যা যা ঘটাল ফ্রান্স

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগকে একপ্রকার খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। মাঠের লড়াইয়ে আফ্রিকান জায়ান্টদের ২-০ গোলে হারিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ওসমানে দেম্বেলে ফরাসিদের উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন। মাত্র ছয় মিনিটের বিধ্বংসী ঝড়ে মরক্কোর রক্ষণব্যুহ ভেঙে চুরমার করে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ফরাসিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি আক্রমণভাগের তীব্র চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিল মরক্কোর রক্ষণভাগ। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে তার ডান পায়ের শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ম্যাচের ২৫তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢোকার মুখে এমবাপ্পেকে ফাউল করেন মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই, যার ফলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিধা করেননি।

পেনাল্টি শট নেওয়ার আগে দীর্ঘ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর রিভিউয়ের কারণে এমবাপ্পেকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশেষে ২৮তম মিনিটে শট নিলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত দক্ষতায় এমবাপ্পের শটটি রুখে দেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সত্ত্বেও ফরাসিরা আক্রমণে আধিপত্য বজায় রেখেছিল এবং ১৩-১ ব্যবধানে শটের দিক থেকে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে।

বিরতির ঠিক আগে মরক্কো গোলে ফেরার একমাত্র বড় সুযোগটি পেয়েছিল। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে আশরাফ হাকিমির নেওয়া ফ্রি-কিকটি ফরাসি গোলপোস্টের ডান দিক দিয়ে ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে অন্য এক ফ্রান্সকে দেখতে পায় গ্যালারির দর্শকরা, যেখানে এমবাপ্পে নিজের ভুল শুধরে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

অবশেষে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মরক্কোর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে যান এমবাপ্পে। দুই কদম বাড়িয়ে দারুণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবাপ্পের ২০তম গোল, যা তাকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির ঠিক এক গোল পেছনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৬৬তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। এবার গোলদাতার ভূমিকায় আসেন ওসমানে দেম্বেলে, যিনি চলতি বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি করলেন। এমবাপ্পে বল পাস দিয়ে দেম্বেলের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করে দেন এবং মরক্কোর ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করে দেম্বেলের নিখুঁত শটে বল আবারও জালে জড়ায়।

খেলার ৭৬তম মিনিটে মরক্কোর ডিফেন্ডারদের কড়া ট্যাকলের শিকার হয়ে মাঠে চোট পান এমবাপ্পে। ডান গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ায় এক মিনিট পরেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং সাইডবেঞ্চে বরফ বেঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে ম্যাচ শেষে চোটের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দুই পায়ে জুতো পরেই সতীর্থদের সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে জয় উদযাপন করতে দেখা যায় এই ফরাসি তারকাকে।

পুরো ম্যাচে ২১-৪ ব্যবধানে শটের আধিপত্য এবং ৮-১ ব্যবধানে অন-টার্গেট শট নিয়ে ফ্রান্স প্রমাণ করেছে কেন তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে এবারও মরক্কোকে একই ব্যবধানে বিদায় করল তারা। আগামী মঙ্গলবার ডালাসে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ব্লুজরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights