ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে রেকর্ড অষ্টম ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ওভালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং ওপেনার বেথ মুনির অনবদ্য অর্ধশতকে সহজ জয় পায় অজি নারীরা।

মোট ১০ আসরের মধ্যে আটবারই ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা রেকর্ড ছয়বার। একটির বেশি শিরোপা নেই আর কারো। তিনবারের বেশি ফাইনালে উঠতে পারেনি আর কোনো দল। শুধু প্রথম ও গত আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

ওভালে মঙ্গলবার ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও, ২০ ওভারে কোনোমতে ১২৫ পর্যন্ত যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৩ ওভারে।

ম্যাচের একমাত্র ফিফটিতে আট চারে ৩৬ বলে ৬১ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুনি। ম্যাচ সেরা অবশ্য তিনি নন। চার ওভারে স্রেফ ১৩ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর, ২০ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পুরস্কারটি পান অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার অ্যাশলি গার্ডনার।

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে তিনবার ম্যাচ সেরা হলেন তিনি, এই পর্বে যা কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ।

লেগ স্পিনার জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম ১৭ রানে ও বাঁহাতি স্পিনার সোফি মলিনিউ ৩০ রানে নেন ২টি করে উইকেট।

টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮-২ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে ব্যবধানটা হলো ৬-১, একমাত্র হারটি ২০১৬ সালের ফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাতবার সেমি-ফাইনালে খেলে হেরে গেল ছয়টিতে। এ দিন টস জিতে বোলিং নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সোফি মলিনিউ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস জানান, টস জিতলে তিনিও বোলিং নিতেন।

তার সেই চাওয়া পূরণ না হলেও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ম্যাচের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন অধিনায়ক। পাওয়ার প্লেতে আসে ৩৫ রান।

৩০ বলে ২৮ রান করা ম্যাথিউসের বিদায়েই শুরুর জুটি থামে নবম ওভারে। ম্যাচে ওয়্যারহ্যামের প্রথম বলে প্যাডল-সুইপ করার চেষ্টায় বোল্ড হন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন ব্যাটাররা। বিনা উইকেটে ৪৭ থেকে একপর্যায়ে স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৫৯, ৬ উইকেটে ৮৩।

জাতীয় সঙ্গীতের সময় সতীর্থদের কাঁধে ভর করে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়া ডিয়েন্ড্রা ডটিন আদৌ ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ছিল সংশয়। শেষ পর্যন্ত আট নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। তার ১৬ বলে অপরাজিত ২৬ রানের সুবাদেই ৭ উইকেটে ১২৫ পর্যন্ত যেতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

রান তাড়ায় ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে থেমে যান জর্জিয়া ভল। দুই চার ও এক ছক্কায় ১১ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে দ্রুতই বিদায় নেন ফিবি লিচফিল্ড। ৪৩ রানে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

চার নম্বরে নেমে অস্বস্তি অনুভব করায় সাত বল খেলে মাঠ ছেড়ে যান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এলিস পেরি। তবে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়ে ভাবতে হয়নি। অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটিতে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান মুনি ও গার্ডনার।

মুনি ফিফটি করেন ২৯ বলে। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে দ্রুততম ফিফটি এটি। ২০২০ সালের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ারই অ্যালিসা হিলির ৩০ বলে ফিফটি ছিল আগের রেকর্ড।

বিশ্বকাপে মুনির পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস হলো আটটি, নিউ জিল্যান্ডের সুজি বেটসের সঙ্গে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ। তবে বেটস যেখানে খেলেছেন ৪৪ ইনিংস, মুনি কেবল ৩১ ইনিংস।

আসরে ছয় ম্যাচের সবকটি জিতে ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া। আগামী রোববার লর্ডসে শিরোপা লড়াইয়ে ইংল্যান্ড অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights