ওষুধ, তৈরি পোশাক, খাদ্যে অপার বাণিজ্য সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ-ব্রাজিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওষুধ শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, খাদ্য ও কৃষিপণ্যে অপার বাণিজ্য সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ এবং ব্রাজিল। দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে উভয় দেশ। এক্ষেত্রে এফটিএ, পিটিএ-এর মত বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি সই এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনার এবং বিটুবি ম্যাচ মেকিং অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।

বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সম্ভাব্য খাতসমূহ চিহ্নিতকরণ, বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, মসৃণ বাণিজ্য লেনদেনের সহজতর উপায় অন্বেষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই সেমিনার ও বিটুবি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই। দেশটি থেকে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের কাঁচামাল তুলা আমদানি হয়। এছাড়াও চিনিসহ বহু পণ্যের বাণিজ্য রয়েছে দু’দেশের মধ্যে। আমি মনে করি আগামীতে বাংলাদেশে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীরা এখানে বিনিয়োগ করলে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের বাজারও ধরতে পারবে। তাই আমি ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উদার আহ্বান জানাই।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা বলেন, বিগত দশকে বাংলাদেশে লজিস্টিকস, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগকে উন্মোচিত করেছে। ব্রাজিল ও বাংলাদেশের পরস্পরের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাই। এসময় বাংলাদেশে মাংস, গমসহ কৃষিপণ্য রফতানির আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

মাউরো ভিয়েরা বলেন, ব্রাজিল বাংলাদেশে তুলা রফতানি করে থাকে। যেটি বাংলাদেশ এবং ব্রাজিল উভয়ের জন্যই একটি ইতিবাচক বাণিজ্য সম্পন্ন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ও ব্রাজিলে মধ্যে বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হলো তৈরি পোশাক। বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে থাকে।

অন্যদিকে, ব্রাজিল গুণগতমানের তুলা উৎপাদনের জন্য ব্রাজিল বিশ্বনন্দিত। সুতরাং বস্ত্রখাতে উভয় দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা বিপুল। একই ভাবে, ব্রাজিলের বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো এবং বাংলাদেশের শক্তিশালী ওষুধ শিল্পের সমন্বয়ে দেশ দু’টি সাশ্রয়ী ও গুণগত স্বাস্থসেবা এবং ওষুধ পেতে পারে। এছাড়া কৃষিতে ব্রাজিলে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেন মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রাজিল থেকে প্রাণিজ আমিষ, ইথানল, অপরিশোধিত চিনি, গো-মাংস, তুলা, ভেজিটেবল ওয়েলসহ নিত্যপণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে বলেন জনান মাহবুবুল আলম। এজন্য দু’দেশের মধ্যে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজিকরণ, লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরাসরি নৌ-পথ রুট চালুর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষীক বাণিজ্যের খরচ ও সময় কমিয়ে আনা সুযোগ রয়েছে বলেন মনে করেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, ২০২২-২০২৩ অর্থ-বছরে ব্রাজিল থেকে প্রায় ২.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর প্রেক্ষিতে দেশটিতে রফতানির পরিমাণ মাত্র ০.১৭ বিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দু’দেশের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

পাশাপাশি বিশ্বের বিকাশমান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ব্রাজিলের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহবুবুল আলম।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিবিসিসিআই সভাপতি শাহরিয়ার আহমেদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, বিবিসিসিআই সহ-সভাপতি সাইফুল আলম, ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডায়াস ফেরেস, এফবিসিসিআই’র পরিচালকবৃন্দ, বিবিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights