কঠোর অবস্থানে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিপিএলের লিগ পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল। প্লে অফের শীর্ষ চার দলে থাকতে লড়াই করছে দলগুলো। অথচ মিডিয়া বক্স থেকে শুরু করে গ্যালারির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দ্রতে ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং। শুরুর দিন থেকে ফিক্সিং নিয়ে টালমাটাল বিপিএল। কয়েকদিন আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেল সংবাদ পরিবেশন করেছে বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং বিষয়ে। সংবাদে ১০ জন বা তার বেশি ক্রিকেটারের সংশ্লিষ্ট থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর থেকে টালমাটাল বিপিএলের চলতি আসর। বিব্রতকর বিসিবি। ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল বিপিএলের এবারের আসর স্মরণীয় করে রাখতে। কিন্তু দুর্বার রাজশাহী, চিটাগং কিংসসহ বেশ কয়েকটি দল ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি করে। ক্রিকেটাররা অনুশীলন বর্জন থেকে ম্যাচ বয়কটও করেন। শুধু তাই নয়, ওয়াইড বল, নো বল ফিক্সিং পরিস্থিতি আরও উসকে দেয়।

টিভি চ্যানেলে ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশিত হলে বিসিবির অবস্থা মুখ লুকানোর মতো হয়ে পড়ে! যদিও বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বোর্ড কঠোর অবস্থানে যাবে, ‘টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে নিচ্ছি না। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান থাকায় আমাদের কিছু প্রটোকল মেনে চলতে হয়। পুরো তালিকা এবং যেসব ম্যাচ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেসব আমাদের নজরে আছে এবং সেসব নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।’

এখন পর্যন্ত বিপিএলের চলতি আসরে অন্তত আটটি ম্যাচে সন্দেহমূলক পারফরম্যান্সের অভিযোগ উঠেছে। সে ম্যাচগুলোয় ১০ জন ক্রিকেটার জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁদের অন্যতম বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করা এনামুল হক বিজয়। আরও দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের নাম এসেছে অলোচনায়
বিপিএল শুরু হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। গতকাল শেষ হয়েছে লিগ পর্বের ৪২ ম্যাচ। শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বিতর্ক ডালাপালা ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত বিপিএলের চলতি আসরে অন্তত আটটি ম্যাচে সন্দেহমূলক পারফরম্যান্সের অভিযোগ উঠেছে। সে ম্যাচগুলোয় ১০ জন ক্রিকেটার জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁদের অন্যতম বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করা এনামুল হক বিজয়। আরও দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের নাম এসেছে অলোচনায়। ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের পাশাপাশি গতকাল দিনভর আলোচনায় ছিলেন এনামুল বিজয়। ক্রিকেটপাড়ায় গুঞ্জন ছিল, এনামুল বিজয়ের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। অবশ্য বিসিবি এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। বিজ্ঞপিতে লিখেছে, ‘এনামুল হক বিজয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, বিসিবি তার বিদেশযাত্রার ওপর এমন কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।’ এনামুল বিজয় নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে কী বলব! আমি এটা (দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা) জানি না পুরোপুরি। নিউজটা দেখেছি শুধু আর কি।’ ফিক্সিং ইস্যুতে নাম থাকার বিষয়ে এনামুল বিজয় বলেন, ‘বিসিবি এগুলো দেখছে। তারাই আমাদের (ক্রিকেটের) অভিভাবক। এখন কেউ না জেনে না শুনে হুট করে একটা কথা বলে ফেলছে, খুবই কষ্টদায়ক আসলে। হ্যাঁ, বিসিবিকে জানিয়েছি আর বিসিবি আসলে কোনো দিন কাউকে জানায়নি। উনারা কোথা থেকে নিউজগুলো পেয়েছেন, বিসিবিও অবাক হয়েছে আসলে।’ এনামুল বিজয় অবশ্য ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সহায়তা চেয়েছেন।

২০১২ সালে শুরু হয় বিপিএল। প্রথম আসর থেকেই ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং নিয়ে জেরবার বিসিবি। ২০১৩ সালে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আইসিসির কাছে অভিযোগ করেছিলেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। ইংলিশ ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার বিষয়টি ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে বিসিবি পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দেয়। এবারও দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না পাওয়ার বিষয়টি বিসিবিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে। ফিক্সিং নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন বিসিবি সভাপতি ফারুক, ‘যদি তদন্তে কোনো কিছু (প্রমাণ) বেরিয়ে আসে, এরপর যে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে সবাই জানেন। আমি যদি সে রকম কিছু পাই, তাদের জীবন কঠিন করে তুলব, আমি কারও অপরাধের ছাড় দেব না। সিদ্ধান্ত একটাই আসবে এবং সেটি সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। সেটি হবে দৃষ্টান্তমূলক।’ বিসিবি চাইছে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে বিপিএল আয়োজন করতে। এজন্য নতুন করে ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights