কবিরাজিসহ প্রথাগত চিকিৎসার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছে ডব্লিউএইচও

অনলাইন ডেস্ক
কবিরাজিসহ বিভিন্ন প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আফ্রিকায় ভেষজ চিকিৎসকেরা ক্ষত বা ব্যথা সারাতে গাছগাছড়া ব্যবহার করছেন, চীনে বিশেষজ্ঞরা আকুপাংচারের সুচ প্রয়োগে মাইগ্রেনের মতো সমস্যার সমাধান করছেন, আবার ভারতে ধ্যানচর্চা ও যোগব্যায়ামে রোগ মোকাবিলা চলছে। এমন বহু পুরোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখন বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে বলে জানাচ্ছে ডব্লিউএইচও।

ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেন্টারের প্রধান ডা. শ্যামা কুরুবিল্লা বলেছেন, দীর্ঘদিন বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে অনেক প্রথাগত চিকিৎসা অবহেলিত ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি সেই ধারণা পাল্টে দিতে পারে। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরুতে বিভিন্ন দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী দশ বছরে ডব্লিউএইচও একটি বৈশ্বিক প্রথাগত চিকিৎসা কৌশল গ্রহণ করবে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যখাতে প্রমাণভিত্তিকভাবে প্রথাগত, পরিপূরক ও সমন্বিত চিকিৎসার সম্ভাবনা কাজে লাগানো।

এই কৌশলের মাধ্যমে প্রথাগত চিকিৎসার জন্য শক্তিশালী প্রমাণভিত্তি গড়ে তোলা, চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা এবং প্রয়োজনে এসব চিকিৎসাকে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুরুবিল্লা বলেন, এখনই বলা যাচ্ছে না কোন চিকিৎসা কতটা কার্যকর। তবে বিষয়টি জানার জন্য বৈজ্ঞানিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভেষজ চা থেকে শুরু করে আয়ুর্বেদ—শত শত বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এসব ব্যবস্থা নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনোমিক্স ও মস্তিষ্কের স্ক্যান প্রযুক্তির মাধ্যমে।

তিনি জানান, প্রথাগত চিকিৎসা প্রয়োগে থাইল্যান্ড একটি সফল উদাহরণ। দেশটিতে গবেষকেরা প্রথাগত চিকিৎসা নথিভুক্ত করছেন এবং ভেষজ চিকিৎসাকে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পরীক্ষা করছেন। গত মে মাসে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পেশির ব্যথা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে আধুনিক ওষুধের বদলে প্রথাগত চিকিৎসা ব্যবহারের সুপারিশও করেছে।

সোর্স: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights