কমিউটার ট্রেনেও টিকিটের হাহাকার, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

ঈদযাত্রার অন্যতম মাধ্যম ট্রেন। কিন্তু সেই ট্রেনের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে অনেকেই টিকতে পারেন না। টিকিট না পেয়ে অনেকে আন্তঃনগর ট্রেনের পরিবর্তে কমিউটার ট্রেনে যাত্রা করেন। তবে এখানেও রয়েছে ফাঁকফোকড়। এক প্রকার যুদ্ধ করে কমিউটার ট্রেনের টিকিট করতে গিয়ে যাত্রীদের অনেককে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বছর ঈদুল ফিতর ঘিরে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত সোমবার (১৭ এপ্রিল)। যা শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার। এবার আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট আগেই অনলাইনে শতভাগ বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে, যাত্রার দিন দেওয়া হচ্ছে স্ট্যান্ডিং টিকিট।

অন্যদিকে কমিউটার ট্রেনে ঈদযাত্রায় অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয় না। যাত্রার দিন দুই ঘণ্টা আগে কাউন্টার থেকে টিকিট ছাড়া হয়। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কমিউটার ট্রেনের টিকিট পেতে ঈদযাত্রার শেষ দিনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে কাউন্টারের সামনে। টিকিট পেতে ভোররাত থেকেই স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় টিকিটপ্রত্যাশীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিউটার ট্রেনের একটি আসন পেতে তিনটি টিকিট কাটতে হচ্ছে। এরপরও দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ঈদযাত্রীদের।

এ বিষয়ে কথা হয় শাহজাহান নামের এক টিকিটপ্রত্যাশীদর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কাঁচাবাজারে দোকান করি। আজ গ্রামের বাড়িতে যাবো, এজন্য কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছি। ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। মহুয়া এক্সপ্রেসে মোহনগঞ্জ যেতে ৯৫ টাকা ভাড়া লাগবে। কিন্তু টিকিট পাওয়া গেলেও আসন পাওয়া যায় না। আমাকে একটি আসন দেওয়া হবে, এজন্য তিনটি টিকিট কাটতে হবে।

অন্যযাত্রী মুসা মিয়া বলেন, আমিও মোহনগঞ্জ যাবো, কিন্তু আসন দেওয়া হচ্ছে না। আসন নিতে গেলে বেশি টাকা চায় অথবা অতিরিক্ত আরও দুটি টিকিট কিনতে বলা হচ্ছে।

আরেক যাত্রী সুজন মিয়া বলেন, ঢাকায় কিছু আয় হয়েছে, পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কিনেছি। পরিবারে ছোট ছেলে-মেয়ে আছে, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। এ কারণে টিকিটের দাম কম-বেশি যাই হোক, বাড়ি যেতেই হবে। যদিও কমিউটার ট্রেনের কাউন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এ নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বেসরকারি ট্রেন নিয়ে বলতে পারছি না। তবে এ বিষয়টা যেহেতু মাত্র শুনলাম, আমরা তাকে এখনই তলব করে জানাবো। কেন এমন করা হচ্ছে তা তাদের জানাতে হবে।

একই দিন সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, টিকিট ছাড়া কেউ প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন না। টিকিট না থাকলে তাকে দাঁড়ানো টিকিট (স্ট্যান্ডিং টিকিট) কেটে স্টেশনে প্রবেশ অনুমতি নিতে হচ্ছে। যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে র্যাব-পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights